সারাবিশ্ব

ইরানের হাতে জব্দ মার্কিন আন্ডারওয়াটার ড্রোন, প্রযুক্তি বিশ্লেষণের ঘোষণা আইআরজিসির


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম

ইরানের হাতে জব্দ মার্কিন আন্ডারওয়াটার ড্রোন, প্রযুক্তি বিশ্লেষণের ঘোষণা আইআরজিসির
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন নৌবাহিনীর একটি অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ড্রোন জব্দ করার দাবি করেছে ইরান। জব্দ করা ওই ড্রোনের প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে এর সক্ষমতা অনুকরণ ও পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরানি নৌবাহিনীর হাতে আসা মার্কিন পানির নিচে চলাচলকারী স্বয়ংক্রিয় যানটির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিশ্লেষণ করা হবে এবং এরপর এর রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

মোহেব্বির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতের সময় ইরানি বাহিনী বিভিন্ন ধরনের মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করেছে। এসব সরঞ্জামের মধ্যে এই অত্যাধুনিক আন্ডারওয়াটার যানটিও রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রোনটিতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে এবং এর প্রযুক্তিগত কাঠামো ও সক্ষমতা বিশ্লেষণ করে ইরানের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে তা কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হবে।

আইআরজিসির এই কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও প্রতিরক্ষা শিল্পে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কিছু অংশ ইরানের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এসব প্রযুক্তি থেকে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা আরও উন্নত করার চেষ্টা করছে তেহরান।

কোন ধরনের ড্রোন এটি?

ইরানের দাবি অনুযায়ী, জব্দ করা পানির নিচের যানটি ‘ডাইভ-এলডি’ (Dive-LD) নামে পরিচিত একটি স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান বা অটোনোমাস আন্ডারওয়াটার ভেহিকল (AUV)। এ ধরনের যান সাধারণত দীর্ঘ সময় পানির নিচে অবস্থান করে নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন সামুদ্রিক মিশন পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হয়।

স্বয়ংক্রিয় ডুবোযানগুলো প্রচলিত মানবচালিত সাবমেরিনের তুলনায় আকারে অনেক ছোট। একই সঙ্গে এগুলোতে মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন তুলনামূলকভাবে কম থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে নির্দিষ্ট এলাকায় অবস্থান করে তথ্য সংগ্রহ বা পর্যবেক্ষণ চালানো সম্ভব। ফলে সামরিক ও গোয়েন্দা কার্যক্রমে এ ধরনের প্রযুক্তির গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।

সামুদ্রিক এলাকায় নজরদারি, পানির নিচের অবকাঠামো পর্যবেক্ষণ, সমুদ্রপথ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক গোয়েন্দা কার্যক্রমে স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ভেহিকল ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে পানির নিচে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করার সক্ষমতা এ ধরনের যানকে সামরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

মার্কিন প্রযুক্তি নিয়ে ইরানের আগ্রহ

জব্দ করা মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম বিশ্লেষণ করে সেগুলোর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কাজে লাগানোর দাবি ইরানের জন্য নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে মার্কিন ড্রোন ও অন্যান্য সামরিক প্রযুক্তি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে তেহরান। এসব সরঞ্জামের প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান।

সর্বশেষ আন্ডারওয়াটার ড্রোনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে আইআরজিসি। তবে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ইরান ঠিক কতটা প্রযুক্তি পুনর্নির্মাণ করতে পারবে এবং সেটি নিজেদের সামরিক ব্যবস্থায় কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে সক্ষম হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি জব্দ করার যে দাবি করা হয়েছে, তার সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে ড্রোনটি কীভাবে ইরানের হাতে এসেছে, এর প্রকৃত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কতটা এবং রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ইরান কতটা সুবিধা অর্জন করতে পারবে-এসব বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য আরও স্বাধীন তথ্য ও প্রমাণের প্রয়োজন রয়েছে।