সারাবিশ্ব

গোলান নয়, ইসরাইলকে নিউ জার্সি দিতে বলেছিলেন শারা


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম

গোলান নয়, ইসরাইলকে নিউ জার্সি দিতে বলেছিলেন শারা
ছবি: সংগৃহীত

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রসিকতা করে বলেছিলেন, ইসরাইলকে যদি কোনো ভূখণ্ড দিতেই চান, তাহলে নিউ জার্সি দিয়ে দিতে পারেন। কারণ, ট্রাম্প নিউ জার্সি নিয়ে কথা বলার অধিকার রাখলেও গোলান মালভূমি দেওয়ার অধিকার তার নেই-এমন বক্তব্যই তুলে ধরেছেন আল-শারা।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে আটলান্টিক কাউন্সিল আয়োজিত এক আলোচনায় আল-শারা ট্রাম্পের সঙ্গে তার আগের একটি কথোপকথনের ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় গোলান মালভূমি নিয়ে আলোচনা হয়। তখন ট্রাম্প ইসরাইলের গোলান মালভূমির ওপর সার্বভৌমত্বের কথা উল্লেখ করলে আল-শারা রসিকতা করে তাকে নিউ জার্সি ইসরাইলকে দিয়ে দেওয়ার কথা বলেন।

আল-শারার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ট্রাম্পকে বলেছিলেন, ‘আপনি যদি ইসরাইলকে কিছু দিতে চান, তাহলে নিউ জার্সি কেন দিয়ে দিচ্ছেন না? গোলান মালভূমি দেওয়ার মতো আপনার মালিকানা নেই, কিন্তু নিউ জার্সি আপনার।’ এরপর তিনি আরও রসিকতা করে বলেন, নিউ জার্সিতে অনেক ডেমোক্র্যাট বাস করেন এবং তারা ট্রাম্পকে ভোট দেন না। তাই ইসরাইলকে নিউ জার্সি দিয়ে দেওয়া যেতে পারে।

তবে আল-শারা স্পষ্ট করেন, নিউ জার্সি নিয়ে করা মন্তব্যটি নিছক রসিকতা। তার মূল বক্তব্য ছিল গোলান মালভূমির মালিকানা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টেরই ওই ভূখণ্ড অন্য কোনো রাষ্ট্রকে দিয়ে দেওয়ার অধিকার নেই। তার মতে, গোলান মালভূমির ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত সেখানকার জনগণ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতেই হওয়া উচিত।

আল-শারা একই আলোচনায় ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প সিরিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং সিরিয়ার ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ কারণে ট্রাম্পের প্রতি তার ব্যক্তিগত সম্মান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

গোলান মালভূমি দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়া ও ইসরাইলের মধ্যে বিরোধের অন্যতম প্রধান বিষয়। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময় ইসরাইল গোলান মালভূমির বড় একটি অংশ দখল করে নেয়। পরে ১৯৮১ সালে ইসরাইল ওই অঞ্চলে নিজেদের আইন, বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসন প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৪৯৭ নম্বর প্রস্তাবে ১৯৮১ সালে ইসরাইলের ওই সিদ্ধান্তকে ‘অকার্যকর’ এবং আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে কোনো বৈধ প্রভাব নেই বলে ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে দখলকৃত সিরীয় গোলানে ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়।

অন্যদিকে, ২০১৯ সালে ট্রাম্প প্রশাসন গোলান মালভূমির ওপর ইসরাইলের সার্বভৌমত্বকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয়। এই অবস্থান জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের দীর্ঘদিনের অবস্থানের সঙ্গে ভিন্ন। আল-শারার সাম্প্রতিক মন্তব্য মূলত এই স্বীকৃতির বিরোধিতা এবং গোলান মালভূমিকে সিরিয়ার ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করার অবস্থানকেই আবার সামনে এনেছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যেও আল-শারা গোলান মালভূমিকে সিরিয়ার ভূখণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে এমন যেকোনো পদক্ষেপের বিরোধিতা করেন। ফলে ট্রাম্পকে নিউ জার্সি দেওয়ার মন্তব্যটি রসিকতা হলেও এর মাধ্যমে গোলান মালভূমি নিয়ে সিরিয়ার রাজনৈতিক অবস্থানটি তিনি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।