সারাবিশ্ব

ভারত সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী, ওদের কথা কেউ বিশ্বাস করে না: পাকিস্তান সেনাবাহিনী


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম

ভারত সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী, ওদের কথা কেউ বিশ্বাস করে না: পাকিস্তান সেনাবাহিনী
পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক (ডিজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের বিরুদ্ধে আবারও কঠোর অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)-এর মহাপরিচালক আহমেদ শরিফ চৌধুরী ভারতকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার দাবি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের বক্তব্য এখন আর বিশ্বাসযোগ্যতা পাচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সংবাদমাধ্যম দ্য ডন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

‘মারকা-ই-হক’-এর এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন আহমেদ শরিফ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে পাকিস্তান নৌবাহিনীর উপপ্রধান (অপারেশনস) রিয়ার অ্যাডমিরাল শাফাআত আলী এবং বিমানবাহিনীর উপপ্রধান (প্রকল্প) এয়ার ভাইস মার্শাল তারিক গাজীও উপস্থিত ছিলেন।

গত বছরের ২২ এপ্রিল পেহেলগাম হামলার পর ভারত-পাকিস্তান সামরিক উত্তেজনা শুরু হয়। পরে পাকিস্তানের ‘অপারেশন বুনইয়ানুম মারসুস’ এবং ১০ মে যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পাকিস্তান এ ঘটনাপ্রবাহকে ‘মারকা-ই-হক’ বা ‘সত্যের যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করে।

সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিআর প্রধান বলেন, পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের উৎস হিসেবে তুলে ধরার ভারতের প্রচারণা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, পেহেলগাম হামলায় পাকিস্তানের সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ ভারত এখন পর্যন্ত দেখাতে পারেনি।

তার ভাষায়, “সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী তোমরাই। কেউ তোমাদের কথা শোনে না, কেউ বিশ্বাসও করে না।”

আহমেদ শরিফ চৌধুরী আরও দাবি করেন, পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একই সঙ্গে তিনি ভারতের সামরিক বাহিনীর ‘রাজনীতিকরণ’ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের ‘সামরিকীকরণ’-এর সমালোচনা করেন।

কাশ্মীর ইস্যুতেও ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন তিনি। তার মতে, কাশ্মীর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি বিরোধপূর্ণ অঞ্চল এবং সেখানে জনসংখ্যার কাঠামো পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের তথ্যও তুলে ধরা হয়। আইএসপিআর প্রধান দাবি করেন, পাকিস্তানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ভারতের মদদ রয়েছে এবং আফগানিস্তানকে এসব কার্যক্রমের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘মারকা-ই-হক’-এর পর বিশ্ব ভারতের তথাকথিত তথ্যযুদ্ধ ও গণমাধ্যম প্রচারণার প্রকৃত চিত্র দেখতে পেয়েছে।