সারাবিশ্ব

মমতার গাড়িতে ইট-পাটকেল, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম

মমতার গাড়িতে ইট-পাটকেল, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী
ছবিঃ সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে।

আজ রবিবার (০৯ ভাগস্ট) উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হালিশহরে একটি বিক্ষোভের মধ্যে তার গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল, জুতা ও পানির বোতল ছোড়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন মমতা। এ ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ হেফাজতে এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগের পর তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি বিক্ষোভের মুখে পড়ে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা তার গাড়ি ঘিরে ফেলেন এবং গাড়ির কাচে কাদাও ছোড়েন।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষোভকারীরা গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। তাদের কেউ কেউ জুতা ও পানির বোতলও ছুড়ে মারেন। এ সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে যান মমতা।

ঘটনার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ইট-পাটকেল তার শরীরে লাগলে তিনি গুরুতর আহত এমনকি নিহতও হতে পারতেন। তিনি বলেন, পুলিশের সামনেই কিছু লোক তার গাড়িতে পাথর ছুড়েছে, কিন্তু পুলিশ তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা নেয়নি।

মমতা বলেন, ‘গাড়ির কাচ বন্ধ না থাকলে আমার মাথা ফেটে যেতে পারত। আমি মারাও যেতে পারতাম। জীবনে কখনো এমন হামলার মুখে পড়িনি।’ তিনি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে অভিযোগ করেন, তার নিরাপত্তার পরিবর্তে পুলিশ বিজেপিকে সুরক্ষা দিচ্ছে।

মমতার সঙ্গে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভা সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার সদস্য দোলা সেনও প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, পুলিশকে ব্যবহার করে বিজেপির পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে মমতার গাড়িতে হামলার ঘটনায় বিজেপির সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে দলটি। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এই হামলার সঙ্গে বিজেপির কোনো সম্পর্ক নেই। একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুলিশকে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পুলিশ হেফাজতে এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগকে কেন্দ্র করেই হালিশহরে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওই ব্যক্তির নাম বিরজু কেওট। তিনি কাঁচরাপাড়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর জেনি শর্মার স্বামী। চাঁদাবাজির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং গত শুক্রবার আদালত তাকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছিলেন।

বিরজু কেওটের স্ত্রী জেনি শর্মার অভিযোগ, পুলিশ হেফাজতে তার স্বামীকে নির্যাতন ও মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর ঘটনায় তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।

রোববার সকালে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় বিরজু কেওটের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই তাকে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। পরে তার গাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও লোকসভা সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, এফআইআরে নাম না থাকা সত্ত্বেও পুলিশ বিরজু কেওটকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল।

অভিষেক বলেন, এফআইআরে নাম না থাকা সত্ত্বেও যদি রাজ্য পুলিশ একজন মানুষকে হেফাজতে নেয় এবং পরে তিনি জীবিত অবস্থায় আর ফিরে না আসেন, তাহলে বিষয়টি শুধু আইনশৃঙ্খলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি সরাসরি আইনের শাসন নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে হামলার অভিযোগ নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে বিজেপি হামলার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও সহিংসতার অভিযোগ নিয়ে দুই দলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই মমতার গাড়িতে হামলার অভিযোগ রাজ্যটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। হামলায় কারা জড়িত ছিল এবং তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কী—তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।