সারাবিশ্ব
যুদ্ধবিরতি নয়, ইউক্রেনের সঙ্গে স্থায়ী শান্তিচুক্তি চায় রাশিয়া: পুতিন
ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে সাময়িক যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে একটি চূড়ান্ত শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী রাশিয়া। এ লক্ষ্যে ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা পুনরায় শুরু করতে মস্কো প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, সাময়িকভাবে সংঘাত বন্ধ রাখার চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে রাশিয়া।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) পুতিন জানান, রাশিয়া স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতির ভিত্তিতে আলোচনায় ফিরতে চায় না। বরং একটি চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী মস্কো। বিশেষ করে শান্তিচুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থা ও শর্তগুলোকে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে রাশিয়া।
পুতিনের এই অবস্থান ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে মস্কোর কূটনৈতিক কৌশলকে নতুন করে সামনে এনেছে। রাশিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, কেবল সাময়িকভাবে যুদ্ধ বন্ধ রাখলে সংঘাতের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বরং এমন একটি চুক্তি প্রয়োজন, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার ঝুঁকি কমানো এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে।
ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে রাশিয়ার প্রস্তুতির কথা জানানো হলেও, এ আলোচনার সম্ভাব্য সময়সূচি বা আলোচনার পরিধি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে, প্রস্তাবিত শান্তিচুক্তিতে কোন কোন শর্ত অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, বিশেষ করে ইউক্রেনের নিরাপত্তা ও ভূখণ্ডসংক্রান্ত বিষয়গুলো কীভাবে বিবেচনা করা হবে, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে, পুতিনের বক্তব্যের বিষয়ে ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া এসেছে কি না, তা-ও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে রাশিয়ার প্রস্তাবিত আলোচনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান এবং শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মহলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে। তবে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য দূর করা, নিরাপত্তার প্রশ্নে সমঝোতা এবং চুক্তির শর্ত নিয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন হবে। পুতিনের সর্বশেষ বক্তব্যের পর প্রস্তাবিত ত্রিপক্ষীয় আলোচনা আদৌ শুরু হয় কি না এবং তা যুদ্ধের অবসানে কতটা ভূমিকা রাখতে পারে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে আন্তর্জাতিক মহলের।