সারাবিশ্ব

মন্তব্যের জেরে উত্তাল ভারত, পশ্চিমবঙ্গ-বিহারে হামলা-ভাঙচুর


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৫, ০৪:৫৭ পিএম

মন্তব্যের জেরে উত্তাল ভারত, পশ্চিমবঙ্গ-বিহারে হামলা-ভাঙচুর
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তার প্রয়াত মাকে নিয়ে অশালীন মন্তব্যের জেরে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। দুই রাজ্যে কংগ্রেসের দপ্তরে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। ফলে দেশজুড়ে কংগ্রেস ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে, যা থমথমে পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় বিহারের দরভাঙ্গায় কংগ্রেসের একটি কর্মসূচি চলাকালে। ‘ভোটার অধিকারের যাত্রা’তে অংশ নেওয়া কংগ্রেসের পতাকা গায়ে জড়ানো এক ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে অশ্লীল মন্তব্য করেন। মুহূর্তেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। বিজেপি এ ঘটনায় থানায় এফআইআর দায়ের করে কংগ্রেসের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলে। পরে দরভাঙ্গা পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে তোলা হয়েছে।

তবে বিষয়টি এখানেই থেমে থাকেনি। শুক্রবার বিহারের পাটনায় বিজেপির কর্মীরা রাস্তায় বিক্ষোভে নামলে কংগ্রেস কর্মীরাও পাল্টা মাঠে নামে। একপর্যায়ে দুই দলের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। দলীয় পতাকার বাঁশ দিয়ে একে অপরকে মারতে দেখা যায় দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের। সংঘর্ষে আহত হন অনেকেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

বিহারের আঁচ এসে পড়ে পশ্চিমবঙ্গেও। সেদিনই কলকাতায় বিধান ভবনের সামনে কংগ্রেসবিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশ করে বিজেপি। অভিযোগ উঠেছে, বিজেপি নেতা রাকেশ সিংয়ের নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীরা কংগ্রেস দপ্তরে ঢুকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। রাহুল গান্ধীর ছবি ছেঁড়া ছাড়াও কংগ্রেসের পোস্টার-ব্যানার নষ্ট করা হয়।

ঘটনার নিন্দা জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র সৌম্য আইচ রায় বলেন, “রাজনীতিতে দেউলিয়াত্ব ছাড়া কেউ এ ধরনের কাজ করতে পারে না। দেশে বিজেপির দুর্নীতি ধরা পড়ছে বলেই কংগ্রেসের উপর রাগ ঝাড়ছে তারা। প্রশাসনের কাছে আমরা দাবি জানাচ্ছি দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

বিহার কংগ্রেস নেতা অশুতোষ অভিযোগ করেন, “ঘটনায় সরকারেরই মদত রয়েছে। নীতীশ কুমার ভুল করছেন। আমরাও জবাব দেব।”

অন্যদিকে বিজেপি নেতা নীতিন নবীন বলেন, “মায়ের অপমানের বদলা বাংলার প্রতিটি ছেলে কংগ্রেসকে দেবে। এর জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে।”

ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, “রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস রাজনীতি সবচেয়ে নিচে নেমে গিয়েছে। একজন গরিব মায়ের ছেলে ১১ বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন—তা তারা মেনে নিতে পারছে না। প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রয়াত মাকে নিয়ে এই ধরনের মন্তব্য শুধু লজ্জাজনক নয়, গণতন্ত্রের উপরও কলঙ্ক।”

বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডা বলেছেন, “এই ধরনের আক্রমণ সব সীমা ছাড়িয়েছে। রাহুল গান্ধী ও তেজস্বী যাদবের ক্ষমা চাওয়া উচিত।”

এদিকে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারও বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রয়াত মাকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য অনুচিত। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”