সারাবিশ্ব
৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল পাকিস্তান
৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে পাকিস্তান। শুক্রবার ভোরে অনুভূত হওয়া এই কম্পনের কারণে দেশজুড়ে আতঙ্ক তৈরি হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও জানা যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পাকিস্তানের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থা ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূমিকম্পটির উৎস ছিল প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার গভীরে। সাধারণত অগভীর উৎসের ভূমিকম্প বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও, গভীর উৎসের ভূকম্পনও বৃহত্তর অঞ্চলে অনুভূত হতে পারে-যা পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায়ই দেখা গেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির বরাতে জানা যায়, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও উত্তর ভারত এমন একটি ভূতাত্ত্বিক অঞ্চলে অবস্থিত যেখানে ভারতীয় প্লেট ও ইউরেশীয় প্লেটের সংঘর্ষ হয়। এজন্য এ অঞ্চলটি বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল। মাঝারি থেকে শক্তিশালী মাত্রার ভূমিকম্প এখানে নিয়মিত ঘটে এবং তা দেশসীমা অতিক্রম করে দূরবর্তী এলাকাতেও অনুভূত হয়।
পাকিস্তানজুড়ে সক্রিয় ফল্ট লাইন থাকার ফলে দেশটি উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে বেলুচিস্তান, খাইবার পাখতুনখাওয়া (কেপি), গিলগিট–বালতিস্তান ইউরেশীয় প্লেটের দক্ষিণ প্রান্তে এবং সিন্ধু ও পাঞ্জাব ভারতীয় প্লেটের উত্তর-পশ্চিম অংশে অবস্থান করায় এ অঞ্চলে ভূমিকম্পের সম্ভাবনা সবসময়ই বেশি। বিশেষত বেলুচিস্তানের কাছে আরবিয়ান প্লেট ও ইউরেশীয় প্লেটের সক্রিয় সীমান্ত থাকায় সেখানে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা আরও তীব্র।
এনডিটিভি জানায়, এখন পর্যন্ত কোনো আহত বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকাগুলোর ঝুঁকি বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
আজ শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তীব্র ভূমিকম্প অনুভূত হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী; রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। একে মধ্যম মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচনা করা হলেও এর প্রভাব ছিল ব্যাপক।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ভবন হেলে পড়া, দেয়ালে ফাটল ধরা এবং মানুষজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটে।