জাতীয়

সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪২ পিএম

সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, দালালদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে র‍্যাব ও ডিজিএফআই একযোগে কাজ করছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।

শুক্রবার সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতাল এবং হাম চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একটি শ্রেণি রোগীদের ভুল বুঝিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, অবৈধ ক্লিনিক ও ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। অবৈধ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করার পাশাপাশি সিলগালাও করা হচ্ছে।

ভুয়া চিকিৎসক ও সনদধারী টেকনিশিয়ান দিয়ে অস্ত্রোপচার করানো প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। তবে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে সময় প্রয়োজন উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের অন্তত ছয় মাস সময় দেওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

ওসমানী হাসপাতালের চিকিৎসকদের সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চিকিৎসকদের আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

হামের টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনার ঘোষণাও দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগের কর্মসূচিতে বিভিন্ন কারণে কিছু শিশু টিকা থেকে বাদ পড়ে। কেউ কর্মসূচির খবর পাননি, কেউ ব্যস্ততার কারণে সন্তানকে টিকাকেন্দ্রে নিতে পারেননি। আবার কিছু শিশু স্কুলে থাকায় টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

মন্ত্রী বলেন, এক কোটি ২৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও শেষ পর্যন্ত এক কোটি ৮৯ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এরপরও পূর্ণ কভারেজ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে নতুন শিশুও যুক্ত হয়েছে। ফলে কিছুটা ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং টিকা না পাওয়া শিশুদের মধ্যে এখন হাম দেখা দিচ্ছে।

তিনি আরও জানান, কর্মসূচির সময় বয়সের কারণে কিছু শিশুকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে তারা টিকার উপযুক্ত হলেও নিয়মিত কর্মসূচি না থাকায় টিকা থেকে বাদ পড়ে যায়।

সিলেটের হাওরাঞ্চলে টিকাদান কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় মূল কর্মসূচির আগে বিশেষ কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ওসমানী হাসপাতালের পরিবেশ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের কোনো সমস্যা থাকলে তা দ্রুত সমাধান করতে হবে। এ সময় আগামী সাত দিনের মধ্যে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন তিনি।

দেশের স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকটের কথাও তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রতি ১১ হাজার থেকে ১২ হাজার মানুষের বিপরীতে মাত্র একজন চিকিৎসক বা নার্স রয়েছেন। সীমিত জনবল নিয়েই স্বাস্থ্যকর্মীরা দিনরাত বিরামহীনভাবে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।