সারাদেশ
বেনাপোলে মৃত্যুর তিন দিন পর ছাড়পত্র, স্বামীর মরদেহ নিয়ে ভারতে ফিরলেন স্ত্রী
চিকিৎসকের ঘোষণায় মৃত্যুর পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও দূতাবাসের ছাড়পত্র সংগ্রহ শেষে দেশে ফিরেছে ভারতীয় পাসপোর্টধারী গৌতম মিস্ত্রির মরদেহ। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনের মাধ্যমে মরদেহ নিয়ে দেশে ফেরেন তার স্ত্রী জাহানারা মিস্ত্রি।
৫৫ বছর বয়সী গৌতম মিস্ত্রি ভারতের কলকাতার কালিয়ানগর সুরাইয়া সেন পল্লীর বাসিন্দা। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের বরিশালে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন তিনি।
গত বুধবার দেশে ফেরার জন্য বেনাপোল চেকপোস্টে আসেন গৌতম ও তার স্ত্রী। গাড়ি থেকে নামার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন গৌতম। পরে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে স্ট্রোকের কথা জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশের অংশে মৃত্যুর কারণে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে মরদেহ নিয়ে ভারতে ফিরতে পারেননি তার স্ত্রী। পরে হাসপাতাল থেকে মৃত্যুসনদ, স্থানীয় থানার সাধারণ ডায়েরির কপি এবং ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ছাড়পত্র সংগ্রহ করা হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়ার পর শুক্রবার বেনাপোল ইমিগ্রেশন থেকে মরদেহ নিয়ে ভারতে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
জাহানারা মিস্ত্রি বলেন, স্বামী অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার পর তার কাছে তেমন কোনো অর্থ ছিল না। এ সময় বাংলাদেশের স্থানীয় মানুষ তাকে অর্থসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন। মরদেহ গাড়িতে তোলা-নামানো থেকে শুরু করে ঢাকায় যাতায়াত, খাওয়াদাওয়াসহ বিভিন্ন খরচেও তারা সহযোগিতা করেছেন।
তিনি বলেন, বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি অর্থ সংগ্রহ করে তাকে সহযোগিতা করেছেন। বাংলাদেশের মানুষের এই মানবিকতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ।
বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুর রহমান বলেন, গত বুধবার স্ট্রোকজনিত কারণে ভারতীয় পাসপোর্টধারী গৌতম মিস্ত্রির মৃত্যু হয়। মৃত্যুর দিন তার স্ত্রীর কাছে মৃত্যুসনদ ও থানার সাধারণ ডায়েরির কপি ছাড়া অন্য কোনো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল না। পরে দূতাবাসের ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়ার পর শুক্রবার ইমিগ্রেশন থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এরপর জাহানারা মিস্ত্রি স্বামীর মরদেহ নিয়ে ভারতের উদ্দেশে বেনাপোল ত্যাগ করেন।