জাতীয়

বেনজীর এখন কোথায়? অবস্থান জানতে ইন্টারপোলের দ্বারস্থ বাংলাদেশ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০১ পিএম

বেনজীর এখন কোথায়? অবস্থান জানতে ইন্টারপোলের দ্বারস্থ বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের বর্তমান অবস্থান নিয়ে নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের একটি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর প্রকাশ্যে আর দেখা যায়নি তাকে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে বেনজীর আহমেদ ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র সেন্ট লুসিয়ায় চলে গেছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে এ তথ্যের সত্যতা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। তার বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।

গত বুধবার পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো থেকে ইন্টারপোলের কাছে ই-মেইল পাঠিয়ে বেনজীর আহমেদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছে।

পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, বেনজীর আহমেদের বর্তমান অবস্থান জানতে ইন্টারপোলের কাছে ই-মেইল করা হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তিনি অন্য কোনো দেশে চলে গেছেন বলে খবর প্রকাশিত হওয়ায় বিষয়টি নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুলাই কারামুক্ত হওয়ার পর ১৭ আগস্ট দুবাই থেকে সেন্ট লুসিয়ায় যান বেনজীর আহমেদ। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দেশটির পাসপোর্ট রয়েছে তার এবং সেখানে তার যৌথ বিনিয়োগও রয়েছে। সেন্ট লুসিয়ার গ্রোস আইসলেট এলাকায় তার একটি ফ্ল্যাট থাকার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব তথ্যের কোনোটি সংশ্লিষ্ট পক্ষের মাধ্যমে এখনো নিশ্চিত হয়নি।

বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো প্রত্যর্পণসংক্রান্ত নথি ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে দুবাইয়ের আদালতে উভয় পক্ষের শুনানি হয়। শুনানি শেষে শর্তসাপেক্ষে বেনজীর আহমেদকে জামিন দেওয়া হয়। একাধিক সূত্রের দাবি, জামিনের শর্ত হিসেবে তাকে প্রায় ৬ কোটি টাকা দিতে হয়েছে।

দুবাইয়ের আদালত থেকে তার জামিন ও কারামুক্তির খবর পাওয়ার পর বাংলাদেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তৎপর হয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দুবাই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও সেখান থেকে তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে সেখানে একটি আইনজীবী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়ার কথাও জানানো হয়। তবে ওই প্রতিষ্ঠান থেকেও বেনজীর আহমেদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি বলে মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে ঢাকায় অবস্থানরত বেনজীর আহমেদের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, বেশ কিছুদিন আগে সর্বশেষ তার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল। তখন বেনজীর দুবাইয়ে অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন। এরপর তিনি অন্য কোনো দেশে গেছেন কি না, তা ওই ব্যক্তি জানেন না। সম্প্রতি তাকে বার্তা পাঠিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

দুবাইয়ের আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিচার বা তদন্ত চলমান থাকলে জামিনে মুক্তির পরও তার ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকতে পারে। এ কারণে বেনজীর আহমেদ দুবাই থেকে অন্য দেশে গেছেন বলে প্রকাশিত খবর নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে একাধিক মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। এসব মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে দেশে ও বিদেশে তার সম্পদ ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে অনুসন্ধান করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালে তিনি দেশ ত্যাগ করেন। পরে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বেনজীর আহমেদ। এর আগে তিনি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের মহাপরিচালকসহ পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের সাতজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। ওই তালিকায় বেনজীর আহমেদের নামও ছিল।

২০২৪ সালে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর দুর্নীতি দমন কমিশন আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে মামলা, সম্পদ জব্দের উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার মাধ্যমে প্রত্যর্পণের উদ্যোগও নেয়। এ জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রস্তুত করা নথি আরবি ভাষায় অনুবাদ করে কূটনৈতিক মাধ্যমে দুবাইয়ে পাঠানো হয়।

তবে দুবাইয়ের আদালত থেকে জামিনে মুক্তির পর বেনজীর আহমেদ বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পেতে এখন ইন্টারপোলের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।