রাজনীতি
লংমার্চে বাধা দেওয়া হলে সরকার জনগণের আস্থা হারাবে: গোলাম পরওয়ার
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের শান্তিপূর্ণ লংমার্চে কোনো ধরনের প্রতিকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা হলে সরকার জনগণের আস্থা হারাবে বলে সতর্ক করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের সর্বশেষ প্রস্তুতি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, বিরোধী দলের বৃহৎ শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি সফল করতে সরকারের প্রশাসনিক সহযোগিতা করা উচিত। সরকার ও সরকারি দলের কেউ যেন এ ধরনের অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত না নেয়, সে প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে সরকার গঠনের পর থেকেই জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে বিরোধী দল সংসদের ভেতরে ও বাইরে নিয়মতান্ত্রিক, গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে।
গোলাম পরওয়ারের দাবি, সরকার গঠনের ছয় মাস পার হলেও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং সরকার গণরায় বাস্তবায়ন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
তিনি বলেন, তারা সরকার উৎখাতের কোনো আন্দোলন করছেন না। তাদের দাবি হলো গণভোটের গণরায় মেনে নেওয়া এবং ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন করা। জুলাই বিপ্লবের রক্তের বিনিময়ে সবাই মিলে একটি স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে চান বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রাজনৈতিক সহিংসতার সংস্কৃতি থেকে সবাইকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে পরমতসহিষ্ণুতার পরিবেশ রয়েছে, এটি প্রমাণ করা প্রয়োজন।
লংমার্চ ঘিরে এখন পর্যন্ত কোনো নাশকতার আশঙ্কা করছেন না জানিয়ে তিনি বলেন, কর্মসূচির বিষয়ে ১১ দল পুলিশের মহাপরিদর্শককে লিখিতভাবে অবহিত করেছে। রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার মানুষ লংমার্চকে অভিবাদন জানাবেন বলে তারা আশা করছেন।
লংমার্চের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, কর্মসূচিতে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি অংশ নেবে। সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর পূর্বনির্ধারিত বিভিন্ন স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজসংলগ্ন ট্রাকস্ট্যান্ড, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল ও মীরসরাই রয়েছে। চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে জনসভার মধ্য দিয়ে লংমার্চ শেষ হবে।
তিনি জানান, লংমার্চে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা গাড়ি থেকে নেমে পথসভায় যোগ দেবেন না। স্থানীয় শাখাগুলো এসব পথসভার আয়োজন করবে। বহরের প্রতিটি গাড়িতে পরিচয়চিহ্ন থাকবে এবং চলন্ত অবস্থায় কোনো গাড়ি বহরে যুক্ত হতে পারবে না। নতুন কোনো গাড়ি যুক্ত হলে সেটি বহরের শেষে যুক্ত হবে। সংবাদ প্রচারের জন্য গণমাধ্যমের গাড়িও বহরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এ লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে।
দেশবাসী এবং দলের নেতা-কর্মীদের ধৈর্য, সাহস ও শৃঙ্খলার সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে লংমার্চ সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন ১১ দলের নেতারা।