সারাবিশ্ব

‘বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্ককে ধর্ষণ বলা যাবে না’


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৬:০১ পিএম

‘বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্ককে ধর্ষণ বলা যাবে না’
ছবি: সংগৃহীত

দুজন প্রাপ্তবয়স্কের পারস্পরিক সম্মতিতে গড়ে ওঠা শারীরিক সম্পর্ককে কেবল বিয়ের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার কারণে ‘ধর্ষণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা যাবে না বলে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদ হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে দায়ের করা ধর্ষণের মামলাসহ সব ফৌজদারি কার্যক্রম বাতিল করেছে।

এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি বিবেক কুমার সিংহের একক বেঞ্চ সঞ্জয় সরোজ ওরফে সঞ্জয় কুমারের দায়ের করা আবেদন মঞ্জুর করে এ রায় দেন।

৩৪ পৃষ্ঠার রায়ে আদালত উল্লেখ করে, মামলার নথি ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা গেছে—সম্পর্কটি সম্পূর্ণ পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতেই গড়ে উঠেছিল। অভিযোগকারী নারী যদি স্বেচ্ছায় শারীরিক সম্পর্কে সম্মতি দিয়ে থাকেন, তবে তা ধর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হবে না।

আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করে, এফআইআর দায়েরের পর ওই নারী অভিযুক্তকে বিয়েও করেন, যা থেকে প্রতীয়মান হয়—মূলত বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করতেই ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছিল। আদালত ঘটনাটিকে ‘বিরল’ উল্লেখ করে জানায়, এই মামলার বিচার চালানো আদালতের সময়ের অপচয় এবং বিচার প্রক্রিয়ার অপব্যবহার।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনাটি প্রয়াগরাজের কর্নেলগঞ্জ থানার। ২০১৯ সালে প্রতাপগড়ের এক তরুণী সঞ্জয় সরোজের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬, ৩২৩, ৫০৪ ও ৫০৬ ধারায় মামলা করেন। তরুণীর অভিযোগ ছিল, বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে দীর্ঘদিন শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন অভিযুক্ত।

তদন্ত শেষে ২০২০ সালে পুলিশ চার্জশিট দাখিল করে। তবে শুনানি শেষে আদালত সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী কয়েকটি রায়ের নজির টেনে জানায়, ধর্ষণের অভিযোগ তখনই প্রযোজ্য হবে যখন প্রমাণিত হবে যে বিয়ের প্রতিশ্রুতি শুরু থেকেই প্রতারণার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছিল।

এই মামলায় প্রায় পাঁচ বছর ধরে সম্পর্ক চলমান ছিল, যা থেকে আদালত মনে করে এটি একটি সম্মতিমূলক সম্পর্ক। ফলে দীর্ঘমেয়াদি প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়াকে ধর্ষণের অভিযোগে রূপ দেওয়াকে আইনের অপব্যবহার হিসেবে উল্লেখ করে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেয়।