সারাবিশ্ব
জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের কড়া জবাব দিলেন জোহরান মামদানি
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দেওয়া বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। জাতিসংঘের মঞ্চে নেতানিয়াহু সরাসরি মামদানির সমালোচনা করার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাব দেন নেতানিয়াহু। একইসঙ্গে তিনি মামদানির ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানের সমালোচনা করেন এবং নিউইয়র্কে ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ সময় মামদানিকে ইহুদিবিদ্বেষী মেয়র বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নেতানিয়াহুর বক্তব্যের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে মামদানি বলেন, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে চলমান সমালোচনা থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতেই জাতিসংঘের মঞ্চ ব্যবহার করেছেন নেতানিয়াহু। তাঁর বক্তব্যের কারণে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চলমান বিতর্কের অবসান হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মামদানি দীর্ঘদিন ধরে গাজা যুদ্ধ এবং নেতানিয়াহু সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করে আসছেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এর আগে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন মামদানি। তবে নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের নিজস্বভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পরোয়ানা কার্যকর করার ক্ষেত্রে আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
জাতিসংঘের ভাষণে গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেন নেতানিয়াহু। তিনি এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের একটি অংশ সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
তবে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সময় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের হলে উপস্থিত ছিলেন না মামদানি। এর পরিবর্তে তিনি নিউইয়র্কে কয়েকটি ফিলিস্তিনি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। পরে একটি জলপাইগাছের চারা রোপণ করেন তিনি। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন মামদানি।
গাজা যুদ্ধ, ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যখন বিতর্ক অব্যাহত, তখনই নেতানিয়াহু ও মামদানির পাল্টাপাল্টি বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।