সারাবিশ্ব

প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি, পদত্যাগ করছেন কারাপ্রধান


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম

প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি, পদত্যাগ করছেন কারাপ্রধান
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে না পারার ঘটনায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন কারা বিভাগের প্রধান ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রাডা। চলতি মাসেই দায়িত্ব ছাড়বেন তিনি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) টেনেসির গভর্নর বিল লি এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) হত্যাকাণ্ডের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইকের সাজা কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় তাকে দুই দফা পেন্টোবারবিটাল ইনজেকশন দেওয়া হলেও তার মৃত্যু হয়নি। পরে সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ক্রিস্টার আইনজীবীদের দাবি, ইনজেকশন প্রয়োগের পর থেকে তিনি অচেতন রয়েছেন। তাকে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

পদত্যাগের সিদ্ধান্তের বিষয়ে ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রাডা বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য দুই ডোজ ইনজেকশন দেওয়ার পরও ক্রিস্টা পাইক বেঁচে গেছেন। এ ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে টেনেসির জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ক্রিস্টার মৃত্যুদণ্ড গত বুধবার সকাল ১০টায় কার্যকরের কথা ছিল। সাজা কার্যকর হলে ২০০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া প্রথম নারী হতেন তিনি। তবে দুই দফা ইনজেকশন প্রয়োগের পরও তার মৃত্যু না হওয়ায় আইনজীবীরা সাজা কমানোর আবেদন করেছেন।

কারাপ্রধানের পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন ক্রিস্টার আইনজীবীরা। তবে তাদের মতে, এই পদত্যাগে ক্রিস্টার কোনো উপকার হবে না।

এক বিবৃতিতে আইনজীবীরা বলেন, বুধবার ক্রিস্টার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতিতে গুরুতর ত্রুটির ইঙ্গিত দেয়। পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে টেনেসির মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থার গভীর সমস্যাগুলো সামনে আসবে বলে তারা আশা করছেন।

আইনি নথি অনুযায়ী, ক্রিস্টাকে টেনেসির ন্যাশভিলের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সেখানে নেওয়া হয়।

আইনজীবীরা জানান, দুই দফা ইনজেকশন দেওয়ার সময় পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে ক্রিস্টাকে কাঁদতে এবং জোরে জোরে শ্বাস নিতে শোনা গেছে। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তিনি অচেতন ছিলেন এবং কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের সহায়তা নিচ্ছিলেন।

এদিকে টেনেসির কারা বিভাগ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিভাগটির দাবি, নির্ধারিত নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত কোনো প্রক্রিয়ার অনুমতি নেই।

তবে ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য আবার চেষ্টা করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানায়নি কারা কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়ায় কোনো ভুল হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আলামত সংরক্ষণের জন্য গত শুক্রবার জরুরি আবেদন করেছেন ক্রিস্টার আইনজীবীরা।