বুধবার, ২৯ মে ২০২৪ | ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
Dhaka Prokash

পণ্য থাকলেও কেনার সামর্থ্য থাকবে না মানুষের: ড. জাহিদ

বিশ্বব্যাপী দুর্ভিক্ষের আশঙ্কার কথা উড়িয়ে না দিয়ে আগাম প্রস্তুতি নিতে বললেন বিশ্ব ব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। ঢাকাপ্রকাশ-কে দেওয়া মোবাইল সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য যেভাবে বাড়ছে আর ডলারের যে পরিস্থিতি তাতে এমন একটা সময় আসতে পারে দেশে উৎপাদিত খাদ্যপণ্য থাকলেও মানুষের কেনার সামর্থ্য থাকবে না। তাই এখন থেকেই আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী দুর্ভিক্ষের যে আশঙ্কার কথা বলেছেন তার যথেষ্ট কারণ রয়েছে বলেও মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ঢাকাপ্রকাশের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক শাহজাহান মোল্লা। সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো—

ঢাকাপ্রকাশ: দুর্ভিক্ষ হতে পারে এমন আশঙ্কার কথা বেশ কিছুদিন ধরে বলছেন সরকার প্রধান। আসলেই কি পরিস্থিতি সেদিকেই যাচ্ছে?

ড. জাহিদ হোসেন: আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সম্প্রতি জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) সেপ্টেম্বরের রিপোর্টে খাদ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে এমন ৪৫টি দেশের তালিকা দেওয়া হয়েছে, তারমধ্যে বাংলাদেশও আছে। তা ছাড়া ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি) তারাও এরকম একটা আশঙ্কার কথা বলেছে। যেহেতু ইউক্রেন হচ্ছে গ্রেনারি অব দ্য ওয়ার্ল্ড। সারাবিশ্বে গমের সরবরাহের প্রায় ২০-২২ শতাংশ আসে ইউক্রেন থেকে। অন্যদিকে ব্লাক সি ব্লকেডের কারণে উৎপাদন থাকলেও সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। আবার উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যুদ্ধের কারণে। তাই বিশ্বব্যাপী একটা সংকট আছে। আবার বৈরি আবহাওয়ায় অনেক খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে যেমন পাকিস্তানে বিশাল বন্যা হয়েছে। ভারতেও কিছু এলাকায় বন্যা হয়েছে। ধান এবং গমের চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৈরি আবহাওয়া, যুদ্ধ, সরবরাহে সমস্যা, এগুলোর কারণে সারাবিশ্বে খাদ্য সংকটের ধারণা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে যদি মন্দা হয় তাহলে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমে যাবে। এর ফলে একটা দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি হতে পারে।

দেখেন, দুর্ভিক্ষ হয় দুটো জিনিস যখন ঘটে। একটা খাদ্যের যোগান যথেষ্ট না থাকলে। আর দ্বিতীয়ত হচ্ছে— যোগান থাকলেও মানুষের ক্রয় ক্ষমতার ঘাটতি আছে। ক্রয় ক্ষমতার ঘাটতি দু’কারণে হতে পারে, একটা হচ্ছে খাদ্যের মূল্য অনেক উচ্চ পর্যায়ে থাকে, মানুষ কিনতে পারছে না। অথবা আয় যদি না থাকে।

ঢাকাপ্রকাশ: বাংলাদেশে কি সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে?

ড. জাহিদ হোসেন: বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যোগানের দিকে এপ্রিল মাসে আগাম বন্যার কারণে আউশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমন একটা দীর্ঘ খরার মধ্যে দিয়ে গেছে। এখনো খরাটা কাটেনি। কাজেই আমন তো একটা বড় ফসল। ফলে নরমালি যে পরিমাণ আমন উৎপাদন হয় এ বছর হয়ত ততটা হবে না। তা ছাড়া বোরো হচ্ছে সেচ নির্ভর, সার নির্ভর। দেশে বিদ্যুতের যে অবস্থা, ডিজেল সরবরাহের যে অবস্থা। ঢাকাতেও দুই ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং, ঢাকার বাইরের কী অবস্থা। যেখানে ডেসকো, ডেসা, সামাল দিতে পারছে না, পিডিবি সামাল দিতে পারছে না, আরইবি কীভাবে সামাল দেবে? বিদ্যুৎ যদি সেচে ব্যবহার না করতে পারি, ডিজেল যদি পর্যাপ্ত না হয়, তাহলে তো বোরো উৎপাদনেও ধাক্কা আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে আমার বিকল্প হলো আমদানি। আমদানির ক্ষেত্রে বড় বড় সরবরাহকারী দেশগুলো যেমন— ফিলিপিনস, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম। এইসব দেশ কিন্তু চাল রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে। তারা হয় শুল্ক বাড়াচ্ছে নয়তো নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে। তারা আগে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে চায়। যেটা স্বাভাবিক।

ঢাকাপ্রকাশ: সরকার তো বিকল্প উৎস থেকে খাদ্যপণ্য আমদানির পরিকল্পনাও করেছিল। তা দিয়ে কি মোকাবিলা করা সম্ভব?

ড. জাহিদ হোসেন: সরকার আমদানির জন্য উদ্যোগ নিয়েছিল। আমদানির জন্য ব্যক্তি খাতে শুল্ক ৬৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামানোর উদ্যোগ নিয়েছিল। এমনকি ২/৩টা প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেওয়া হয়। সেগুলোর কি অবস্থা জানি না। আমদানি যদি সময় মতো দেশে এসে না পৌঁছায় তাহলে তো যোগানে একটা ঘাটতি দেখা দেবে। এখন মূল্যস্ফীতি তো ৯ শতাংশের উপরে। সেখানে তো মানুষ এমনিতেই কষ্টে আছে, ক্রয় ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। সব বিবেচনা করেই দুর্ভিক্ষের আশঙ্কাটা।

ঢাকাপ্রকাশ: এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় কী?

ড. জাহিদ হোসেন: বের হওয়ার একটাই উপায় অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে জোর দিতে হবে বেশি। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উপর তো কারো নিয়ন্ত্রণ নেই। দেখা যাবে খাদ্যপণ্য পাওয়া গেল কিন্তু কেনা গেল না। ২০০৮ সালের অভিজ্ঞতাটা অনেকটা একই ধরণের ছিল। প্রথমে আগস্টে বন্যা হলো, সেপ্টেম্বরে আবার বন্যা তারপর নভেম্বরে আসল সাইক্লোন ‘সিডর’। যার কারণে আমন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলো। আন্তর্জাতিক বাজারে কেউ চাল বিক্রি করছিল না। সবাই চালের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। তখন বোরোতে বাম্পার ফলন এক নম্বর প্রায়োরিটি ছিল। উৎপাদন নরমালের চেয়ে অনেক বেশি করতে হবে। সেজন্য পানি, সার, কীটনাশক এবং যন্ত্রের পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করার জন্য শতভাগ অ্যাফোর্ট দরকার ছিল। আমাদের বোরো ধানের চাষটা ওভাবেই দেখতে হবে। আমন-আউশের ক্ষতি কীভাবে বোরো দিয়ে পুষিয়ে নিতে পারি ভাবতে হবে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ব্যবহারটা কোথায় অগ্রাধিকার দেবেন সেটা নির্ধারণ করতে হবে। দেখা গেল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের জন্য ডিজেল, এলএনজি, কিনব না, সেটা না কিনে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে ঘাটতি সেটার কারণে বৈদেশিক মুদ্রা লোকসান হবে বেশি। উৎপাদনে ঘাটতি হলে চাল আমদানি করা লাগতে পারে, সুতা আমদানি করতে হতে পারে।

ব্যবসায়ীরা এলএনজি আমদানির জন্য প্রস্তুত। তাতে মাসে ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দরকার। এটা না আনলে একদিকে দৃশ্যমান সাশ্রয় দেখা যাবে। বাস্তবে যে ক্ষতিটা দৃশ্যমান না সেটা হলো আমদানিতে ক্ষতি হবে। ব্যবসায়ীরা বিটিএমই থেকে সুতা না কিনে চায়না থেকে কিনবে। সেখানে তো আমদানি ব্যয় বেড়ে যাবে।

আমাদের পরিস্থিতি শ্রীলঙ্কার কথা মনে করিয়ে দেয়। শ্রীলঙ্কা সার এর আমদানি বন্ধ করে দিয়েছিল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের জন্য। তাতে তাদের ৪০০ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হলো। কিন্তু ওটা না করার ফলে যে চাল আমদানি করতে হলো তাতে তাদের ব্যয় হলো ৪৫০ মিলিয়ন ডলার। সে সময় সার ও অন্যান্য কীটনাশক পর্যাপ্ততা না থাকায় চায়ের উৎপাদন কমে গেল। সেখান থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়টা কমে গেল, তাতে কি হলো হিতে বিপরীত। বিদ্যুৎ উৎপাদন যেহেতু সব খাতকে প্রভাব ফেলে- সরাসরি সেখানে কৃষি, সেবা, শিল্প খাত তো বটেই। গ্যাসের সরবরাহ যাতে বিদ্যুতের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পায়, ডিজেল সরবরাহ, বিদ্যুৎ এবং সেচের জন্য যেন থাকে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা তো প্রতিদিনই বাংলাদেশ ব্যাংক বিক্রি করছে। সেগুলো কিসের জন্য বিক্রি করছে? প্রতিদিনই তো ৬০, ৭০ কোনো দিন ১০০ মিলিয়ন ডলার করে বিক্রি হচ্ছে জরুরি আমদানির জন্য? ডিজেল কী জরুরি আমদানি না? সার কী জরুরি আমদানি না? এলএনজি কী জরুরি আমদানি না? সেগুলোকে যদি অগ্রাধিকার না করি তাহলে তো লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি হবে।

ঢাকাপ্রকাশ: তাহলে মানুষ কী কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে?

ড. জাহিদ হোসেন: এখনই যেসকল মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে আছে, তারা অনেক কষ্টে আছে। এখন ওদের তো দুর্ভিক্ষের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না, ওরা এরইমধ্যে কষ্টে আছে। সরকার ফ্যামিলি কার্ড সিস্টেম চালু করেছে। কথা হচ্ছে, যে মানুষগুলো কষ্টে আছে তারা কী পাচ্ছে? এক কোটি পরিবারের জন্য করা হচ্ছে। কিন্তু দরিদ্রের সংখ্যাটি তো অনেক বেশি। তারা এখন জীবিকার যুদ্ধে আছেন। তাই খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি আরও বাড়াতে হবে।

এনএইচবি/আরএ/

Header Ad

এমপি আনার হত্যায় অভিযুক্ত শিমুলের সহযোগী গ্রেপ্তার

এমপি আনার হত্যায় অভিযুক্ত শিমুলের সহযোগী গ্রেপ্তার। ছবি: সংগৃহীত

সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যা মামলায় জড়িত শিমুল ভূঁইয়ার ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ সাইফুল আলম মেম্বারকে গ্রেপ্তার করেছে যশোর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার (২৮ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে যশোর শহরের রায়পাড়া বাবলাতলা এলাকার একটি মৎস্য হ্যাচারি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সেখানে কয়েকদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন।

গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ তার কাছ থেকে একটি ভারতীয় নম্বরসহ মোবাইল ফোন ও বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। যশোর ডিবি পুলিশের দাবি, সাইফুল মেম্বার বাবলাতলার সেই হ্যাচারিতে পাঁচদিন ধরে অবস্থান করছিলেন।

সাইফুল চোরাইপখে ভারতে পলাতক ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মফিজুল ইসলাম। আনার হত্যার সময় তিনি ভারতে উপস্থিত ছিলেন বলে গোয়েন্দারা ধারণা করছেন। গত ১৯ মে তিনি ভারত থেকে যশোরে ফেরেন।

এসময় তার কাছ থেকে ভারতীয় সিম জব্দ করা হয়েছে। তবে আটক সাইফুল ইসলাম তার কাছের ভারতীয় সিম দিয়ে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার ছুটিপুর সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করে ভারতে কথা বলতেন বলে দাবি করেছেন। সাইফুল আলম যশোরের অভয়নগর উপজেলার দামুখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য। তিনি দত্তগাতি গ্রামের বাসিন্দা। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে বোমা তৈরির ৯৬০ গ্রাম বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে বলে ডিবি জানায়।

সাইফুল আলম তিনটি হত্যা ও একটি অস্ত্র মামলার আসামি বলে এসআই মফিজ জানান। তিনি বলেন, সাইফুল আলম নিষিদ্ধ পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা। একইসাথে শিমুল ভূঁইয়ার সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে কাজ করেন সাইফুল।

ডিবি পুলিশ যশোরের উপ পরিদর্শক মফিজুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে চাঁচড়া বাবলাতলার আমিনের মৎস্য হ্যাচারিতে তারা অভিযান চালান। এ সময় সেখান থেকে সাইফুল আলম মোল্লা মেম্বারকে আটক করা হয়। আটক সাইফুল আলম মোল্লা মেম্বার অভয়নগর উপজেলার দত্তগাতি গ্রামের কাশেম মোল্লার ছেলে। তিনি শীর্ষ চরমপন্থি নেতা শিমুল ভুঁইয়ার সেকেন্ড ইন কমান্ড এবং পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির নেতা।

ডিবি কর্মকর্তা আরও জানান, সাইফুল আলম মোল্লা মেম্বার এক সময় মাছের ব্যবসা করতেন। সেই সূত্র ধরে ৫ দিন আগে চাঁচড়া বাবলাতলায় এসে তিনি আত্মগোপন করেছিলেন। আটকের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করে তিনি ভারতে যোগাযোগ করতেন। ভারতীয় সিম দিয়ে তিনি ভারতের বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে কথা বলতেন। তবে ভারতে ছিলেন না বলে দাবি তার।

এ সময় তার ব্যবহার করা নাম্বারটি দেশে না ভারতে ব্যবহৃত হতো, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেয়া হয়েছে কিনা প্রশ্নের জবাবে এসআই মফিজ বলেন, এ ব্যাপারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

এসআই মফিজুল ইসলাম বলেন, অভয়নগর উপজেলার দত্তগাতি গ্রামের রকিবুল ও সুব্রত হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি শিমুল ভূইয়া ও সাইফুল। এছাড়া মনিরামপুর উপজেলার পাচাকড়ি গ্রামের উদয় শংকর হত্যা মামলার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে সাইফুলের নাম এসেছে। এই জবানবন্দির সূত্র ধরে গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে তার গ্রেফতারের জন্য ডিবি চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু যখনই অভিযানে যাই, তখনই শুনি সে ভারতে আছে।

ফের গাজায় তাঁবু ক্যাম্পে ইসরায়েলি হামলা, ১২ নারীসহ নিহত ২১

ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ গাজা উপত্যকার রাফাতে তাঁবু ক্যাম্পে ফের ইসরাইলি হামলার পর ফিলিস্তিনিরা তাদের তাঁবু পরিদর্শন করছেন। অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে বাস্তুচ্যুতদের ক্যাম্পে ফের হামলা চালিয়েছে ইসরাইল বাহিনী। এতে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১২ নারী ছিলেন। হামলায় আহত হয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক মানুষ।

বুধবার (২৯ মে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফা শহরের কাছে আল-মাওয়াসিতে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর একটি তাঁবু ক্যাম্পে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন বলে ফিলিস্তিনি চিকিৎসা কর্মকর্তারা এবং ফিলিস্তিনি বার্তাসংস্থা জানিয়েছে।

এর আগে রোববার রাতে গাজা ভূখণ্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফা শহরে বাস্তুচ্যুত লোকদের শিবিরে ভয়াবহ হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে কমপক্ষে ৪৫ ফিলিস্তিনি নিহত হন। সর্বশেষ এই হামলা এমন এক সময়ে হলো যখন আগের ওই হামলার কারণে ইসরায়েল বিশ্বব্যাপী নিন্দা ও সমালোচনার মুখে পড়েছে।

গাজার চিকিৎসা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাফা গভর্নরেটে হওয়া এই হামলায় নিহতদের মধ্যে অন্তত ১২ জন নারী।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, হামলায় আরও ৬৪ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর। অন্যদিকে ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তাসংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, ওই এলাকাটিতে ইসরাইল বিমান হামলা চালিয়েছে।

তবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী রাফার আলমাওয়াসিতে হামলা চালানোর কথা অস্বীকার করেছে। আগ্রাসন পরিচালনাকারী এই সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘গত কয়েক ঘণ্টার প্রতিবেদনের বিপরীতে (আমরা বলতে চাই), আইডিএফ (ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী) আল-মাওয়াসির ওই মানবিক এলাকায় হামলা করেনি।’

এদিকে ইসরায়েলি আক্রমণ গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের বর্বর আক্রমণের কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আর খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের তীব্র সংকটের মধ্যে গাজার সকলেই এখন খাদ্য নিরাপত্তাহীন অবস্থার মধ্যে রয়েছেন।

এছাড়া অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরায়েল ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে।

তৃতীয় ধাপে ৮৭ উপজেলায় ভোটগ্রহণ শুরু

তৃতীয় ধাপে ৮৭ উপজেলায় ভোটগ্রহণ শুরু। ছবি: সংগৃহীত

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে দেশের ৮৭ উপজেলায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এ ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ১৬ উপজেলায় এবং বাকিগুলোতে ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ চলছে।

তৃতীয় ধাপে ১১২ উপজেলায় ভোট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মৃত্যুজনিত ও মামলার কারণে ধাপ পরিবর্তন হয়েছে দুটি উপজেলার, আর পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার তিন পদের সবাই বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ায় এবং ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে ২২ উপজেলার ভোট স্থগিত হওয়ায় এই ধাপে ৮৭ উপজেলায় ভোট হবে। এই ধাপে চেয়ারম্যান পদে একজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে চারজন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাতজনসহ মোট ১২ জন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে চেয়ারম্যান পদে ভোট করার সুযোগ থাকলেও স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বা মনোনয়ন দেয়নি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ফলে, আওয়ামী লীগ নেতারা নির্বাচন করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। অন্যদিকে বিএনপির অল্প কিছু নেতার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়লেও, দলটি উপজেলা পরিষদের ভোট বর্জন করেছে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় ধাপে মোট এক হাজার ১৫২ জন প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে রয়েছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৩৯৭, ভাইস চেয়ারম্যান ৪৫৬ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৯৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৫৬টি পৌরসভা ও ৮৪১টি ইউনিয়নের দুই কোটি ৮ লাখ ৭৫ হাজার ১৮৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র রয়েছে সাত হাজার ৪৫০টি। এর মধ্যে দুর্গম এলাকার ৪১৪টি কেন্দ্রে গতকাল রাতেই ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনি সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। বাকি সাত হাজার ৩৬টি কেন্দ্রে আজ ভোরেই এসব সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে।

নির্বাচনে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোট বিজিবি মোতায়েন থাকবে ২৯৯ প্লাটুন। ভোটকেন্দ্রে মোট পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে ২৯ হাজার ৯৫৮ জন, মোবাইল টিমে মোট পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে সাত হাজার ৭৯৪ জন, স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোট পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে তিন হাজার ৩৬৪ জন। সর্বমোট পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে ৫৯ হাজার ২১৯ জন। মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোট র‌্যাব মোতায়েন থাকবে ২৩০টি টিম। ভোটকেন্দ্র এবং মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোট আনসার সদস্য মোতায়ন থাকবে এক লাখ ৪০ হাজার ৬৬৯ জন। নির্বাচনে স্বাভাবিক এলাকার ভোটকেন্দ্রে পুলিশ, আনসার, ভিডিপি, গ্রাম পুলিশ, চৌকিদার, দফাদারসহ মোট ১৭ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। আর গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ থেকে ১৯ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। বিশেষ এলাকার (পার্বত্য ও দুর্গম এলাকা) সাধারণ কেন্দ্রে ১৯ জন ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ২০ থেকে ২১ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

নির্বাচন উপলক্ষে ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিবসের পূর্ববর্তী মধ্যরাত অর্থাৎ ২৮ মে দিনগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ২৯ মে দিনগত মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। ৮৭টি উপজেলায় তিনদিনের জন্য মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে গত সোমবার মধ্যরাত থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে। ভোটের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঠে নামানো হয়েছে র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নির্বাচন অপরাধ আমলে নিয়ে সংক্ষিপ্ত বিচার কাজ পরিচালনায় মাঠে রয়েছেন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ও আচরণ বিধি প্রতিপালনে নিয়োজিত করা হয়েছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

ভোটের প্রস্তুতির বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, ‘আগের মতোই ভালো প্রস্তুতি আছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে যা ছিল, এই ধাপে তার চেয়ে আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়। অতএব সেটায় কোনো সমস্যা নেই। আবহাওয়া কেমন থাকবে বা না থাকবে সেটার উপর অনেক কিছুই নির্ভর করবে। ভোটার উপস্থিতি কেমন হবে, এই মুহূর্তে আমরা বলতে পারছি না। এটি ভোটের দিনই বোঝা যাবে।’

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে ইসি আলমগীর বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা, নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্টরা এবং কমিশন খুব কঠোর অবস্থানে আছে। অতএব আমরা মনে করি না, সহিংসতা করে কেউ পার পাবে। যারা নিজেদের ভালো চাইবেন তারা সহিংসতা করতে চাইবেন না, এটাই স্বাভাবিক।’

বিকেল তিনটা বা তার আগে খুব কম সংখ্যক ভোট কাস্ট হয়। ওই সময়ে ১০, ১২ বা ১৫ শতাংশ ভোট পড়ে। কিন্তু, ৪টা নাগাদ ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রীয়ভাবে যখন ফলাফলটা আসে তখন শতাংশটা বেড়ে যায়। জনশ্রুতি যেটা থাকে, হয়তো কমিশন ওখান থেকে ভোটের হার বাড়িয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি নজরে আনলে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘এটি একেবারেই এবসার্ট। যদি ১ শতাংশ ভোটও পড়ে তাহলেও কমিশন হ্যাপি। আমাদের কঠোর নির্দেশ, ভোটার যদি একজন আসে কোনো কেন্দ্রে ওই একটি ভোটেই হবে। দুইটা দেখানোর কোনো সুযোগ নেই। ভোট বাড়ানো বা কমানোর কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি এ কাজ করে এবং তা যদি প্রমাণ হয়, তার বিরুদ্ধে আমরা কঠিন ব্যবস্থা নেব।’

তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে তিন হাজার ২৭৭ জন পর্যবেক্ষককে অনুমোদন কমিশন। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ১৫টি পর্যবেক্ষক সংস্থার কেন্দ্রীয়ভাবে ২২৯ জন ও স্থানীয়ভাবে তিন হাজার ৪৮ জন পর্যবেক্ষককে এ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। আগামী ৫ জুন চতুর্থ ধাপের ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

সর্বশেষ সংবাদ

এমপি আনার হত্যায় অভিযুক্ত শিমুলের সহযোগী গ্রেপ্তার
ফের গাজায় তাঁবু ক্যাম্পে ইসরায়েলি হামলা, ১২ নারীসহ নিহত ২১
তৃতীয় ধাপে ৮৭ উপজেলায় ভোটগ্রহণ শুরু
পেটে গজ রেখেই সেলাই, মারা গেছেন সেই সুমি
বগুড়ায় সোনালী ব্যাংক ডাকাতির চেষ্টা
বেনজীর আহমেদ ও তার স্ত্রী-কন্যাকে দুদকে তলব
কোনো অপরাধী শাস্তি ছাড়া পার পাবে না : সাবেক সেনাপ্রধান ও বেনজির প্রসঙ্গে কাদের
এমপি আনারের ৪ কেজি মাংস উদ্ধার
খালের পাড়ে বসছে সিসি ক্যামেরা, ময়লা ফেললেই আইনি ব্যবস্থা
চুয়াডাঙ্গায় ইউপি চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে জখম
বিরামপুরে দুর্নীতি প্রতিরোধে স্কুল পর্যায়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
ঘূর্ণিঝড় রেমালের ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শনে পটুয়াখালী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিল স্পেন ও নরওয়ে
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৪-এর অজানা সব খবর
ঢাকা সফরে আসছেন আইএমও’র মহাসচিব
বেনজিরকে গ্রেফতারে আইনী কোন বাধা নেই: দুদক আইনজীবী
মানি লন্ডারিং: বেসিকের বাচ্চুসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট
আমি রেকর্ডের পেছনে ছুটি না, রেকর্ডই আমার পেছনে ছোটে: রোনালদো
তরুণরা তামাকের পেছনে বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেন
বকেয়া বেতনের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ