বুধবার, ৮ মে ২০২৪ | ২৫ বৈশাখ ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব-২৩

স্নানের শব্দ

‘তোরা তো সারাক্ষণ অনলাইনে পড়ে থাকিস, কখনো যদি সেখানে আমার নামে কোনো খারাপ কথা লেখা দেখিস, তখন কেমন লাগবে তোর?’ শবনম সতর্ক ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করে মেয়েকে। কিছুক্ষণ আগে ওয়েটার টেবিলে খাবার রেখে গেছে। সেখান থেকে একটা মচমচে ফ্রাইড চিকেনে কামড় বসিয়ে চিবুতে চিবুতে শ্রাবণ পাল্টা প্রশ্ন করে,

‘কেন মা? তুমি কি সেলিব্রেটি হয়ে গেছ?’

ওর বলার ভঙ্গিতে শবনম হেসে ফেলে। তারপর বলে, ‘সে তো একটু আধটু হয়েছিই, পত্রিকায় ছবি ছাপিয়েছে, ইন্টারভিউ বেরিয়েছে।’

একটা চিকেন উইংস-এ সস মাখাতে মাখাতে শ্রাবণ বলে, ‘তাহলে তো ঠিকই আছে, সেলিব্রেটিদের নিয়ে স্ক্যান্ডাল হবে এটা তো খুব স্বাভাবিক! যদু মধু কদুকে নিয়ে মানে আমজনতাকে নিয়ে তো আর কেউ কিছু লিখবে না ..’

শবনম হাসে। আজকে গাড়িতে বসে মেয়ের সঙ্গে অফিসের সংকট নিয়ে দুয়েকটা কথা শেয়ার করেছিল। সেসব কথার সূত্র টেনে শ্রাবণ জ্ঞানী মানুষের মতো ভাব করে বলল,
‘শোনো মা তোমার পজিশনে যাওয়ার জন্য কত মানুষের লোভ বলো তো, তোমার নামে বদনাম রটিয়ে কোনোভাবে ফেলে দিতে পারলে হয়ত তারা গিয়ে তোমার চেয়ারে বসবে, এরকম ভাবে..’
শবনমের মনে হয় তার সামনে বসে শ্রাবণ না, যেন তার কোনো বুঝদার অভিভাবক কথা বলছে।
‘আরেকটা জিনিস ভাবো তো মা, বায়োলজিক্যালি তুমি নারী আবার তুমি কোম্পানির হাইয়েস্ট র্যাংকিং পারসন, ৭ চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার, তুমি যদি পুরুষ হতে, তাহলে কি অপজিট পক্ষ তোমাকে ডিস্টার্ব করত না?’
শবনম একটু ভাবে।

‘হুম, করত হয়ত কিন্তু সেটার ধরনটা অন্যরকম হতো, মেয়েদের হ্যারাস করার কিছু বাঁধা ধরা ছক আছে, যেমন চরিত্র নিয়ে বাজে কথা রটানো, শারীরিকভাবে হেনস্থা করা, যেগুলো পুরুষ যেমন পাত্তা দেয় না, সমাজও তেমন কিছু মনে করে না, কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে এসব ঘটলেই হলো—মান সম্মান নিয়ে টানাটানি শুরু হয় ।’
ওরা মা মেয়ে একটা খুব সুন্দর সাজানো গুছানো রুফটপ রেস্টুরেন্টে খেতে বসেছে। শ্রাবণ মেন্যু দেখে নিজে পছন্দ করে খাবারের অর্ডার দিয়েছে এখন খুব আগ্রহ নিয়ে মজা করে খাবারগুলো খাচ্ছে। খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে আবার বড় মানুষের মতো ভঙ্গি করে মাকে নানারকম পরামর্শ দিচ্ছে।
‘বুঝছো মা, পুরুষের জগতে কাজ করতে ঢুকলে তুমি যে নারী সেইটা একদম ভুলে যেতে হবে। নারী পুরুষ ব্যাপার না, আসল ব্যাপার হলো কাজ। কাজে তুমি কতটা পারদর্শী, কতটা দক্ষ, কতটা যোগ্য সেটাই সবাই দেখবে ..’
‘ইশ পাকা বুড়ি একটা! এমনভাবে কথা বলছিস যেন পঞ্চাশ বছরের কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন ভদ্রমহিলা কথা বলছেন! ’

মায়ের কথায় শ্রাবণ একটু লজ্জ্বা পায়। ঠোঁট বাঁকা করে লাজুক হাসে। কপাল থেকে বাঁ হাত দিয়ে আলগা চুল সরিয়ে মুখটা নিচু করে বলে,
‘তোমার কাছেই তো শিখেছি! তুমিই না সেদিন কাকে যেন বলছিলে, কাজের জায়গায় মেয়েদের ব্যক্তিত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। কেউ যেন নারী বলে দুর্বল না ভাবতে পারে! কেউ যেন অন্যায় সুযোগ নিতে না পারে! ’

শবনম ঠিক মনে করতে পারে না, কবে কাকে কখন এসব কথা বলেছিল সে। কিন্তু তা নিয়ে মেয়েকে আর কিছু বলে বিব্রত করতে চায় না সে। শুধু বলে, ‘সামনে তো তুইও চাকরি বাকরি করবি, তখন এই কথাগুলো মনে রাখিস, তাহলেই চলবে।’
‘চাকরি করব না মা, ভাবছি বাইরে থেকে ডিগ্রিটা নিয়ে এসে বাবার ব্যবসা দেখা শোনা করব। বিজনেস উইমেন হব আমি!’

শ্রাবণ ঘাড় ঝাঁকিয়ে ঘোষণা দেয়। শবনম একটু অবাকই হয়। তার চকচকে চাকরির ক্যারিয়ার দেখেও সেই লাইনে না গিয়ে মেয়ে কিনা আকৃষ্ট হলো বাবার লক্কর ঝক্কর মার্কা ব্যবসার দিকে! যাক করুক ওর যা ইচ্ছা! সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সে স্বাধীন।

শবনম বলল, ‘তা বেশ। চাকরি বা ব্যবসা যাই করিস কথাগুলো মনে রাখিস। মেয়ে বলে হীনমন্যতায় ভোগার কিছু নেই, যা করবি নিজের সাহসে, নিজের যোগ্যতায় করবি।’

ওদের খাওয়া প্রায় শেষ হয়ে এসেছিল। মা মেয়ে খাওয়া শেষে ফুড কোর্ট থেকে বেরিয়ে পাশের সিনেপ্লেক্সে ঢ়ুকে যায়। একটা আধা হরর, আধা সায়েন্স ফিকশন, আধা মনস্তাত্ত্বিক টাইপের জগাখিচুড়ি মার্কা ইংরেজি ছবি চলছিল। পপকর্ণের ঠোঙ্গা হাতে খুব আগ্রহ নিয়ে সিনেমাটা দেখছিল শ্রাবণ। শবনমের রুচির সঙ্গে আবার এই ধরনের সিনেমা তেমন যায় না। সে কিছুক্ষণ জোর করে চোখ টেনে মেয়ের সাথে মুভি দেখল তারপর কখন যে হলের নরম সিটে গা এলিয়ে চোখ বুজে ঘুমিয়ে পড়েল নিজেই টের পেল না।

ঘুমের মধ্যে সে স্বপ্ন দেখলো একটা খুব চমৎকার দুধসাদা রঙের মার্বেল পাথরে তৈরি সাজানো গুছানো ঘরে বসে একমনে কাজ করছে সে। এক সময় কাজ শেষ হলে কম্পিউটর বন্ধ করে বাইরে যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়াল শবনম। আর তখনই সে আবিষ্কার করল ঘরটায় কোনো দরজা নেই। দুই হাত দিয়ে হাতড়ে হাতড়ে সবগুলো দেয়াল বাইরে বের হওয়ার জন্য দরজা জানালা খোঁজার চেষ্টা করল শবনম। কিন্তু মসৃণ দেয়ালে হাত পিছলেই গেল শুধু দরজা জানালা কেনো, কোনো ফাঁকফোকড়ের চিহ্নই খুঁজে পাওয়া গেল না। যেন নিরেট সাদা একটা বাক্সে আটকা পড়েছে সে। শবনম চিৎকার করে বলল, ‘কেউ আছেন? আমি বের হতে চাই! শুনতে পাচ্ছেন ..’

তার কথা প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরে এল। কেউ এল না। না কোনো মানুষ, না তার মুক্তি। সেই শীতল অন্ধকূপের ভেতরে শবনম শুধু চারিদিক হাতড়ে বেড়াতে থাকল। চারপাশে সাদা বরফের দেয়াল, উপরে নিচে আশে পাশে বের হওয়ার কোনো পথ নেই। ভয়ে আতঙ্ক রক্ত হিম হয়ে গেল শবনমের। দমবন্ধ লাগল। মনে হল, সে নিশ্বাস নিতে পারছে না। এদিকে সাদা দেয়ালগুলো যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে। তারা ধীরে ধীরে শবনমের দিকে চেপে আসছে, তাকে পিষে দিতে চাইছে। একটা ভয়ানক যন্ত্রণার অনুভূতি তার সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে। মুখ দিয়ে গোঙানীর মত একটা আওয়াজ বেরিয়ে এল তার। আর এর মধ্যেই অনেক দূর থেকে যেন শুনতে পেল শ্রাবণের চাপা কণ্ঠ,
‘মা, ও মা, কি হয়েছে? ঘুমিয়ে গেছ নাকি?’
চোখ খুলে শবনম প্রথমে বুঝতেই পারল না সে কোথায় আছে! তার চোখে এখনো সেই সাদা বরফের দেয়ালের আলো আর ভয় লেগে আছে। সিনেমা হলের আলো আধাঁরিতে সে কেমন বিভ্রান্ত বোধ করে।
‘তুমি সিনেমা দেখো নাই, ঘুমায়ে গেছিলা?’

শবনম এবার সম্বিত ফিরে পায়। সোজা হয়ে বসে ঘাড় ঘুরিয়ে চারিদিকে তাকায়। সিনেমা শেষ হয়ে গেছে। মানুষজন হল ছাড়ছে। শ্রাবণ কোমল গলায় বলে, ‘তুমি অনেক ক্লান্ত মা, তোমার আসলে রেস্ট দরকার।’

বাসায় ফিরেও সিনেমা হলে দেখা দুঃস্বপ্নটা ভুলতে পারে না শবনম। ওই সাদা পাথরের ঘর থেকে হিম সাদা বরফ কুচি যেন তার রক্তের ভেতর ঢুকে গেছে, শিরা উপশিরা ধমনী দিয়ে সেই শ্বেত শুভ্র তুষার কণাগুলো তাদের সমস্ত শৈত্য নিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বেশ শীত লাগছে তার।
শ্রাবণ কপালে হাত দিয়ে বলল, ‘গা টা একটু গরম মনে হচ্ছে, একটা প্যারাসিটামল খেতে পার।’
‘নাহ্ তেমন কিছু না, ঠিক হয়ে যাবে।’ শবনম মেয়েকে আশ্বস্ত করে। ‘কাল রাতে ঠিক মত ঘুম হয়নি তো! এখন একটা ভাল ঘুম দিলেই .. ব্যাস.. চিন্তা করিস না।’

শ্রাবণ তার অ্যাসাইনমেন্ট করতে নিজের ঘরে চলে গেলে বাইরের কাপড় ছেড়ে একটা ঢিলেঢালা ম্যাক্সি পরে নেয় শবনম। তারপর ঘরের লাইট নিভিয়ে শুয়ে পড়ে। শরীর জুড়ে অবসাদ কিন্তু তার দুই চোখে ঘুম আাসে না। কেমন একটা বমি বমি ভাব হয়, গা গুলাতে থাকে। শ্রাবণের পাল্লায় পড়ে তেলে ভাজা ফাস্ট ফুড খাওয়া বোধহয় ঠিক হয়নি, বয়স বাড়লে পেটে অনেক কিছু হজম হতে চায় না। গ্যাস হয়। বাথরুমে গিয়ে কিছুক্ষণ বমি করার চেষ্টা করল সে। কিন্তু বমি হল না, গা গুলানো ভাবটা রয়েই গেল। চোখ দুটো জ্বালা করছে কিন্তু একটুও ঘুম আসছে না শবনমের। পথের কুকুরদের ঘেউ ঘেউ শুনল সে। রাতের ট্রাকের দূরাগত হর্ন শুনতে পেল। শ্রাবণের ঘর থেকে হাল্কাভাবে কোনো একটা ইংরেজি গানের সুর ভেসে আসছে। সারা রাত জেগে গান শুনবে আর পড়ালেখা করবে মেয়েটা। শবনম এক ধরনের শারিরীক মানসিক অস্বস্তি নিয়ে বিছানায় এপাশ ওপাশ করে। ভোরের দিকে চোখটা একটু লেগে এলে সে দেখতে পায় শহরের মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল বিলবোর্ডগুলোতে মনিরুজ্জামানের সঙ্গে তার নানা ধরনের অন্তরঙ্গ ছবি শোভা পাচ্ছে। পথচারিরা দারুণ কৌতুহলে ভিড় করে সেইসব ছবি দেখছে।

চলবে…

আগের পর্বগুলো পড়ুন>>>

স্নানের শব্দ: পর্ব ২২

স্নানের শব্দ: পর্ব-২১

স্নানের শব্দ: পর্ব-২০

স্নানের শব্দ: পর্ব-১৯

স্নানের শব্দ: পর্ব-১৮

আরএ/

Header Ad

গণমাধ্যমের তথ্য প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করা হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

কর্মশালায় বক্তব্য রাখছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। ছবি: সংগৃহীত

তথ্য অধিকার আইনের আওতায় গণমাধ্যমের তথ্য প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত।

মঙ্গলবার (৮ মে) রাজধানীর দারুস সালামে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘তথ্য অধিকার আইন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, তথ্য অধিকার আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন সরকার নিশ্চিত করতে চায়। এ আইন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে পাশ করা হয়। সরকার নিজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য এ আইন করেছে। তবে যেকোনো একটি আইন সমাজে তৈরি হলে, সে আইন বাস্তবায়নে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। এ আইনে যারা তথ্য নেবেন বা যারা তথ্য দেবেন দুই পক্ষেরই কিছু বোঝাপড়ার অভাব থাকতে পারে। এ আইন শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করেছে। কিন্তু সে অস্ত্রের ব্যবহার না অপব্যবহার হবে সেটা বোঝা এবং এ আইনে যাদের কাছে তথ্য চাওয়া হবে তাদের মধ্যে একটি সংস্কৃতিগত রূপান্তর দরকার। তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় জড়তা থাকে। যেগুলো জনসম্পৃক্ত তথ্য, জনগণের যেটা অধিকার সে তথ্য দেয়ার বিষয়টি সরকার নিশ্চিত করতে চায়। গণমাধ্যমের সাংবাদিকদেরও তথ্য চাওয়ার ক্ষেত্রে পেশাদার অ্যাপ্রোচ থাকা প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, তথ্য অধিকার আইনের অধীন যে তথ্য চাওয়ার অধিকার আছে সে বিষয় নিয়ে অনেক সময় যারা তথ্য চাইবেন তাদের পক্ষ থেকেও কিছু ভুল বোঝাবুঝি থাকে। কোনো তথ্য সর্বসাধারণের জন্য এবং কোনো তথ্য গোপন তথ্য সেটার পার্থক্য করতে পারা জরুরি। কিছু তথ্য আছে স্পর্শকাতর যেগুলো গোপন আইনের অধীন রক্ষিত আছে, এগুলো সর্বসাধারণের জন্য নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক, বিটিআরসিসহ এ ধরনের অন্যান্য স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বেশ কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হয়। এসব কৌশল বাস্তবায়নের আগপর্যন্ত অনেক সময় গোপন রাখতে হয়। এগুলো প্রকাশ করলে অনেক সময় বৃহত্তর স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এক্ষেত্রে সাংবাদিকতা, তথ্যের অবাধ প্রবাহ, তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছানো এবং স্পর্শকাতর তথ্য এসবগুলোর মধ্যে ভারসাম্য করতে হয়। সেখানে প্রশিক্ষণ, যোগাযোগ ও মিথস্ক্রিয়া সব পক্ষের করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, তথ্যের অবাধ প্রবাহ, জনগণের কাছে তথ্য পৌঁছানো ও অপতথ্য মোকাবিলা করতে হবে। তবে সর্বসাধারণের জন্য তথ্য এবং জাতীয় স্বার্থে যেগুলোক পৃথিবীর সব দেশে স্পর্শকাতর ও গোপন তথ্য হিসেবে ধরা হয় সেগুলোর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। আমরা সরকার ও প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিতে চাই। এটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অঙ্গীকার।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, তথ্য অধিকার আইনকে আমরা আরও প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আমরা চাই, সাংবাদিকরা যেন এ আইন ব্যবহার করে আরও ক্ষমতাপ্রাপ্ত হোন, এ আইনের পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারেন এবং তার উপযোগিতা আমরা সমাজে পাই। একইসঙ্গে এ আইনের আমরা দায়িত্বশীল ব্যবহার দেখতে চাই। যাদের এ আইনের অধীনে তথ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে তাদের প্রতি আহ্বান থাকবে যেন তথ্য চাওয়া হলে সেটি দেওয়া হয়। জনগণের পক্ষ থেকে যখন গণমাধ্যম তথ্য চাইবে, সে তথ্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। সঠিক তথ্য যত দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরবরাহ করা হবে, ততো গুজব বা অপপ্রচার হওয়ার সুযোগ কম হবে।

তিনি আরও বলেন, যে তথ্য জনগণের বলে তথ্য অধিকার আইন নিশ্চিত করছে, সেই তথ্য গণমাধ্যমকে দিতে হবে। এ তথ্যগুলো যত দ্রুততার সঙ্গে সহজলভ্য করা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ এ ধরনের অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠানের জন্য তত ভালো। আমাদের সবার এ মানসিকতা তৈরি করা দরকার যে, সঠিক তথ্য যত দ্রুত জনগণের কাছে চলে আসবে- এটা আমাদের জন্য মঙ্গল।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার চায় তথ্য অধিকার আইনের আওতায় যারা তথ্য দেবেন না, তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে যেন কোনো ধরনের জড়তা বা মানসিক বাধা না থাকে। সরকার আরও চায় সরকারি প্রতিটি প্রতিষ্ঠান দ্রুততম সময়ের মধ্যে তথ্য সহজলভ্য করুক। আর যারা তথ্য চাইবেন আমরা চাই তথ্য অধিকার আইন তারা সঠিকভাবে ব্যবহার করবেন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই আইন ব্যবহারের সক্ষমতা তৈরি হোক সেটাও আমরা চাই; যাতে এ আইনের অপব্যবহার কেউ না করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য দেওয়া প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য সহজলভ্য করা হবে।

তিনি আরও যোগ করেন, অপসংবাদিকতা হলে তার সবচেয়ে বড় শিকার হয় পেশাদার সাংবাদিকরা। অপপ্রচার হলে পেশাদার সাংবাদিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সব আইনেই কিছু অসৎ ব্যক্তি অপব্যবহারের সুযোগ নিতে চায়। সেটা আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে হবে; কিন্তু সাইবার নিরাপত্তা আইন (সিএসএ) ব্যবহার করে কোনো সাংবাদিকতার চর্চা আটকে দেওয়ার সুযোগ নেই। সিএসএ পেশাদার সাংবাদিকতাকে সুরক্ষা দেবে।

জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সুফী জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য কমিশনের প্রধান তথ্য কমিশনার ডক্টর আবদুল মালেক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলম।

দুই দিনের ঢাকা সফরে এসেছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিনয় মোহন কোয়াত্রা। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিনয় মোহন কোয়াত্রা দুই দিনের সফরে ঢাকা এসেছেন। বুধবার (৮ মে) সন্ধ্যায় এক বিশেষ ফ্লাইটে তিনি বিমানবন্দরে অবতরণ করেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর এ‌টি দি‌ল্লির কোনো প্রতি‌নি‌ধির প্রথম ঢাকা সফর।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিনয় কোয়াত্রা বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাঠানো দিল্লি সফরের আমন্ত্রণপত্র তুলে দেবেন। ওই দিন তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিনয় কোয়াত্রা ঢাকা সফরের সময় পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ও ভারত আগামী জুন মাসের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের বিষয়টি মোটামুটি চূড়ান্ত করেছিল। এখন প্রধানমন্ত্রীর ওই সফর পিছিয়ে জুলাইয়ে আয়োজন করতে চাইছে ভারত। ঢাকা সফরের সময় বিনয় কোয়াত্রা এটি বাংলাদেশের কাছে তুলে ধরতে পারেন।

ছেলে-পুত্রবধূর অপমান সইতে না পেরে বৃদ্ধ মা-বাবার বিষপান

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ছবি: সংগৃহীত

নাটোরের গুরুদাসপুরে ছেলের ওপর অভিমান করে মা-বাবার এক সঙ্গে বিষ পানের ঘটনা ঘটেছে। স্বজন ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন।

বুধবার (৮ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের হামলাইকোল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বিষপানে গুরুতর অসুস্থ বাবা-মা হলেন- মো. আলম শেখ (৬০) ও নাজমা বেগম (৫০)।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আলম শেখ বলেন, আমার দুই মেয়ে এক ছেলে। ছেলে সবুজ শেখকে সব জমি-জমা লিখে দিয়েছি। ছেলে কথা দিয়েছিল সংসারের সকল দায়িত্ব নেবে এবং আমার সব ঋণ পরিশোধ করবে। কিন্তু জমি লিখে নেওয়ার পর ছেলে কথা রাখেনি। এদিকে ঋণের কারণে পাওনাদারদের অপমান-অপদস্থ সহ্য করতে হচ্ছে। পাশাপাশি ছেলে ও ছেলের বউ এর দুর্ব্যবহার তো রয়েছেই। তাই অতিষ্ঠ হয়ে স্বামী-স্ত্রী এক সঙ্গে বিষপান করেছেন বলে জানান তিনি।

মা-বাবার বিষপানে আত্মহত্যাচেষ্টার বিষয়ে জানতে চাইলে ছেলে সবুজ শেখ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. স্নিগ্ধা আক্তার জানান, বিষপান করে দুজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে আলম শেখের স্ত্রী নাজমা বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ

গণমাধ্যমের তথ্য প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করা হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী
দুই দিনের ঢাকা সফরে এসেছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব
ছেলে-পুত্রবধূর অপমান সইতে না পেরে বৃদ্ধ মা-বাবার বিষপান
৪৬তম বিসিএস প্রিলির ফল প্রকাশ হতে পারে আগামীকাল
জনগণের কষ্ট লাঘবে সরকার সবসময় সচেষ্ট: প্রধানমন্ত্রী
ফের আলিয়া ভাটের আপত্তিকর ভিডিও ফাঁস!
‘কাচ্চি ভাই’ রেস্টুরেন্টের মালিক সিরাজ গ্রেপ্তার, দুই দিনের রিমান্ডে
এক লাফে ডলারের দাম বাড়ল ৭ টাকা
আজ বিশ্ব গাধা দিবস, পালন করা হয় যেভাবে...
প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচনে ৩০-৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে: সিইসি
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে জাইকার প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ
প্রথম ধাপে ১৩৯ উপজেলায় ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা
বগুড়ায় ব্যালট পেপার বাইরে দেওয়ায় প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও প্রার্থীর এজেন্ট আটক
জাতীয় দলে ফিরলেন সাকিব-মুস্তাফিজ-সৌম্য
ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরলেন মির্জা ফখরুল
মাদারীপুরে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ, বিস্ফোরণ, আহত ১০
দেশে অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নিয়ে অনুসন্ধান চলছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ভোট কারচুপির অভিযোগে ফুলছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির ভোট বর্জন
মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুপক্ষের মারামারি, আহত ৫০
নওগাঁর ভোট কেন্দ্রগুলোতে নেই ভোটার উপস্থিতি