জাতীয়
‘নিঃশর্ত ক্ষমা’ প্রার্থনায় এনবিআরের আন্দোলনকারী কর্মকর্তারা
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের পদত্যাগ এবং কাঠামোগত সংস্কার দাবিতে চলা আন্দোলনের ইতি টেনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এখন চাচ্ছেন ‘নিঃশর্ত ক্ষমা’।
গত দুই দিনের মধ্যে একাধিক দফায় আন্দোলনে অংশ নেওয়া আয়কর ও কাস্টমস ক্যাডারের কর্মকর্তারা চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চেয়েছেন।
বুধবার (৯ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআরের প্রধান কার্যালয় ‘রাজস্ব ভবনে’ আয়কর ক্যাডারের প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা এবং পরে কাস্টমস ও ভ্যাট ক্যাডারের আরও প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেন। এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, এ সময় তারা আন্দোলনের কারণে রাজস্ব আদায়, দেশ ও অর্থনীতির ক্ষতির বিষয়টি স্বীকার করেন এবং তা পুষিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
এর একদিন আগেই, মঙ্গলবার (৮ জুলাই) প্রায় দুই শতাধিক আয়কর ক্যাডার কর্মকর্তাও একইভাবে চেয়ারম্যানের কাছে ক্ষমা চেয়ে দেখা করেছিলেন। এদের বেশিরভাগই ‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ’ নামে গঠিত সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যাদের নেতৃত্বে গত দুই মাস ধরে চলছিল ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ এবং ‘মার্চ টু এনবিআর’-এর মতো কর্মসূচি।
এই প্রসঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, “যারা আন্দোলন করেছেন, আমি তাদের ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা করে দিয়েছি। কিন্তু যারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, তাদের ক্ষমা করবে কি না—সেই সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রই নেবে।”
তিনি আরও বলেন, “দেশের স্বার্থে, রাজস্ব আদায়ে সবাইকে আবার ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এনবিআর হচ্ছে দেশের অর্থনীতির অক্সিজেন। তাই রাজস্ব সংগ্রহে আন্তরিকভাবে মনোযোগ দিতে হবে।”
উল্লেখ্য, গত ২৯ জুন ‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ’ তাদের চলমান আন্দোলন স্থগিত করে কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। এরপর ৩০ জুন এনবিআর চেয়ারম্যান তার দফতরে ফিরে আসেন এবং কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, অতীত ভুলে সবাইকে রাষ্ট্রের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর এনবিআরের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকেরা আশাবাদী, এতে দেশের রাজস্ব আহরণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।