সারাদেশ

ছেলে সেজে বিয়ে, পাঁচ মাস সংসারের পর জানা গেল স্বামী আসলে ‘মেয়ে’


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম

ছেলে সেজে বিয়ে, পাঁচ মাস সংসারের পর জানা গেল স্বামী আসলে ‘মেয়ে’
ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পুরুষ পরিচয়ে এক তরুণীকে বিয়ে করে প্রায় পাঁচ মাস সংসার করার অভিযোগ উঠেছে আরেক তরুণীর বিরুদ্ধে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় সালিশে অভিযুক্ত তরুণীকে মারধর, বেত্রাঘাত ও কান ধরে উঠবস করানোর অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁকে তওবা পড়ানো হয় বলেও জানা গেছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের বরিশাল গ্রামে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

কাবিননামা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরিশাল গ্রামের ইব্রাহিম খলিলের মেয়ে চাঁদনী আক্তার নিজেকে পুরুষ পরিচয় দিয়ে রাসেল নাম ধারণ করেন। পরে গত ১৫ এপ্রিল পলাশবাড়ী পৌরসভার হিজলগাড়ী গ্রামের তাজু মিয়ার মেয়ে লাবনী আক্তারকে আদালতের হলফনামা ও কাবিনের মাধ্যমে বিয়ে করেন তিনি। এরপর তাঁরা প্রায় পাঁচ মাস একসঙ্গে বসবাস করেন।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, পরে তাঁদের দুজনই নারী বলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। সামাজিকভাবে নিজেদের সম্পর্কের স্বীকৃতি পাওয়ার উদ্দেশ্যে চাঁদনী নাম ও পরিচয় পরিবর্তন করে বিয়ের উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। প্রথমে চাঁদনীর বাবা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

এরপর শুক্রবার জুমার নামাজের পর স্থানীয়দের উদ্যোগে সালিশ বৈঠক বসে। এতে এলাকাবাসীর পাশাপাশি স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও মসজিদ কমিটির সদস্যরা অংশ নেন। বৈঠকে লাবনীকে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটানো হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

সালিশে উপস্থিত হাসান নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বৈঠকের একপর্যায়ে সবার সামনে বাঁশের কঞ্চি বা বেত দিয়ে চাঁদনীকে মারধর করা হয়। তাঁকে কান ধরে উঠবসও করানো হয়। এ ছাড়া ভবিষ্যতে শার্ট-প্যান্ট না পরার নির্দেশ দেন সালিশের বিচারকেরা। এ সময় চাঁদনী নিজের ভুল স্বীকার করে উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে ক্ষমা চান বলে ওই প্রত্যক্ষদর্শী জানান।

ঘটনার বিষয়ে বরিশাল ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আশরাফুল ইসলাম বলেন, দুই তরুণী বিয়ে করে সংসার করছিলেন বলে তিনি শুনেছেন। তবে সালিশ বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন না।

বরিশাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি আগে কিছু জানতেন না। সাংবাদিকদের কাছ থেকেই প্রথম বিষয়টি শুনেছেন।

পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরোয়ার আলম খান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে ঘটনাটি পুলিশের নজরে এসেছে। বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।