জাতীয়

নিলামে তোলা হচ্ছে বেনজীরের গুলশানের ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটের জিনিসপত্র


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৫, ১০:১৬ পিএম

নিলামে তোলা হচ্ছে বেনজীরের গুলশানের ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটের জিনিসপত্র
বেনজীর আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের গুলশানের বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটে থাকা ব্যবহৃত জিনিসপত্র নিলামে তোলা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশে ইতোমধ্যে গঠিত নিলাম কমিটি এ বিষয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে।

ঢাকার র‍্যানকন টাওয়ারে ১২ ও ১৩ তলার চারটি ফ্ল্যাট মিলিয়ে তৈরি করা হয় বেনজীর দম্পতির আলিশান ডুপ্লেক্স। সুইমিং পুল, হোম থিয়েটার, অতিথি বিনোদন কক্ষসহ আধুনিক সব সুবিধায় সুসজ্জিত এ বাসস্থানের সম্পদ তালিকা করে তাক লেগে গেছে সংশ্লিষ্টদের।

নিলাম কমিটির এক সদস্য জানান, ফ্ল্যাটটির জব্দকৃত ২৪৬টি আইটেমে এমন বহু জিনিসপত্র রয়েছে, যা দেখে মনে হয়েছে তারা যেন ফিলিপাইনের বিতর্কিত স্বৈরশাসক মার্কোস ও তার স্ত্রী ইমেলদার সম্পদের তালিকা তৈরি করছেন। উদাহরণ হিসেবে শুধু পোশাক-পরিচ্ছদের দিকেই তাকালে দেখা যায়—১২২টি শার্ট, ২৬৬টি প্যান্ট, ৭২২টি টি-শার্ট, ৪৯৪টি শাড়ি, ৬২২টি লেডিস টপস, ৩৫৫টি লেডিস প্যান্টসহ বিপুল পরিমাণ জামাকাপড়, জুতা, ভ্যানিটি ব্যাগ, প্রসাধনী সামগ্রী ও গৃহস্থালি জিনিস রয়েছে।

তালিকায় আরও আছে ১৯টি ফ্রিজ, ১০০ টন ক্ষমতার এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবস্থা, মূল্যবান আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী। তবে বড় আকারের আসবাবপত্র আপাতত নিলামের বাইরে রাখা হয়েছে—এই বিষয়ে পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে গঠিত এই নিলাম কমিটিতে রয়েছে দুদকের এক পরিচালক, একজন ম্যাজিস্ট্রেট, বস্ত্র অধিদপ্তর এবং ইস্পাত প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা। কমিটির কাজের অংশ হিসেবে বেনজীরের ফ্ল্যাটের ইনভেন্টরি সম্পন্ন হয়েছে এবং শিগগিরই নিলামের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ও তার পরিবার ক্ষমতার অপব্যবহার করে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন এবং ২০২৪ সালের মে মাসে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পাসপোর্ট করে পরিবারসহ দেশ ছেড়ে গোপনে পালিয়ে যান।

ইতোমধ্যে দুদক তার বিরুদ্ধে অর্থপাচার, জাল পাসপোর্ট এবং প্রায় ১১ কোটি টাকার পাচার মামলাসহ কয়েকটি মামলা করেছে। বেনজীরের স্ত্রী ও দুই কন্যার বিরুদ্ধেও ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে চারটি পৃথক মামলা করা হয়েছে।