জাতীয়

মাইলস্টোন শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে এখনো অবরুদ্ধ দুই উপদেষ্টা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৫, ০৩:০৮ পিএম

মাইলস্টোন শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে এখনো অবরুদ্ধ দুই উপদেষ্টা
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের মর্মান্তিক ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দুপুরে কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল ও শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের ঘিরে ফেললে, তারা কলেজটির ৫ নম্বর ভবনের নিচে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

উপদেষ্টাদের সুরক্ষায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জুতা ও পানির বোতল ছুড়ে মারেন। পুরো এলাকা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি।

এদিন সকাল ১১টা থেকেই কলেজের সামনের রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভে নামে শিক্ষার্থীরা। ব্যানার-প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন—‘বিচার চাই না, সন্তানের লাশ চাই’, ‘সঠিক লাশের হিসাব চাই’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’।

শিক্ষার্থীরা ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন:

১. নিহতদের নাম-ঠিকানা প্রকাশ
২. আহতদের নির্ভুল তালিকা প্রদান
৩. শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা
৪. ক্ষতিপূরণ প্রদান
৫. ঝুঁকিপূর্ণ প্লেন বাতিল
৬. সামরিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতির সংস্কার

এদিকে, দুর্ঘটনার ঘটনায় আজ দুপুর ২ টায় পর্যন্ত অন্তত ৩১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী।

প্রসঙ্গত, সোমবার দুপুর ১টার পর উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরে কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। বিমানটি সরাসরি কলেজ ভবনের ওপর পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়। বিধ্বস্ত ভবনটিতে তখন বহু শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী ও বিজিবি উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেয়। আহতদের দ্রুত হেলিকপ্টারে করে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।

শোকাবহ এই ঘটনার পর রাষ্ট্রীয়ভাবে মঙ্গলবার একদিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গভীর শোক প্রকাশ করে বার্তা দিয়েছেন।

উত্তরার এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ও পরবর্তী ক্ষোভে বিস্ফোরিত আন্দোলন দেশজুড়ে নাড়া দিয়েছে। নিহতদের পরিবারের আহাজারি ও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ মিলিয়ে রাজধানীর আকাশে এখনো ভারী এক বিষাদের ছায়া।