জাতীয়
বিতর্কিত ৩ সংসদ নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা ম্যাজিস্ট্রেটদের তথ্য চাইল ইসি
২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ এই তিন বিতর্কিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা ম্যাজিস্ট্রেটদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য চেয়ে মাঠে নেমেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সম্প্রতি পুলিশের তদন্ত সংস্থা পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) একটি মামলার তদন্তের প্রয়োজনে এই তথ্য চাইলে, কমিশন তা সংগ্রহে মাঠ প্রশাসনের সহায়তা নিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বুধবার (৬ আগস্ট) ইসি থেকে দেশের সব জেলা প্রশাসক এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার বরাবর একটি চিঠি পাঠানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে যেসব নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের নাম, ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, পাসপোর্ট নম্বর এবং মোবাইল নম্বরসহ বিস্তারিত তথ্য দ্রুত সময়ের মধ্যে পাঠাতে হবে। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব মনির হোসেন।
জানা গেছে, পিবিআই ২৪ জুলাই নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়ে তথ্য চেয়ে ইসিকে একটি চিঠি দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় নেমেছে ইসি। এর আগে ৩ জুলাই রিটার্নিং অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের তথ্যও পিবিআইয়ের অনুরোধে সংগ্রহ করতে শুরু করে কমিশন।
ইসি সচিব মো. আখতার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, পিবিআই যে ধরনের তথ্য চেয়েছে, তা দ্রুত সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত ২২ জুন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে, যেখানে অভিযোগ করা হয়, ইসি তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। বরং তারা তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভয়-ভীতি দেখিয়ে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছে।
মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই পিবিআই মাঠ পর্যায়ে থাকা সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য সংগ্রহে এগিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এবং আচরণবিধি বাস্তবায়নে দেড় হাজারের বেশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করে নির্বাচন কমিশন। সেইসঙ্গে প্রয়োজনে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এই উদ্যোগকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকে বলছেন, নির্বাচন কমিশনের ইতিহাসে এই প্রথম এত বিস্তৃতভাবে নির্বাচনি কর্মকর্তাদের তালিকা তলব করা হলো।