জাতীয়
সাবেক মেয়র তাপসকে সিঙ্গাপুর যেতে যেভাবে সাহায্য করলেন শেখ হাসিনা!
সরকার পতনের ঠিক আগ মুহূর্তে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) তৎকালীন মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যকার দুটি ফোনালাপের অডিও ক্লিপ ফাঁস করেছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের।
জুলাই ও আগস্টের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সরকার পতনের পটভূমিতে এই ফোনালাপগুলো নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জুলকারনাইন সায়েরের ভাষ্যমতে, অডিওটির প্রথম অংশটি ২০২৪ সালের ২২ জুলাই দুপুর ১১টা ৪৯ মিনিটে রেকর্ড করা। সেখানে দেখা যায়, ব্যারিস্টার তাপস অত্যন্ত নরম ও আবেগময় ভাষায় শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তিনি বলেন, "হাসুমনি, একটু আসতে চাচ্ছিলাম, তোমাকে দেখতে চাচ্ছিলাম, আসব?"
তবে শেখ হাসিনা তাপসকে সতর্ক করে বলেন, "এসবের মধ্যে আসার দরকার নেই।"
জবাবে তাপস জানতে চান, "তাহলে কারফিউ শিথিল হলে আসি?"
এতে হাসিনা জানান, তিনি তখন অফিসে থাকবেন এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তখন তাপস বলেন, "আচ্ছা, তাহলে ওই সময় অফিসে এসে দেখা করে যাব।"
ফাঁস হওয়া অডিওর দ্বিতীয় অংশটি ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট সকাল ৮টা ১৬ মিনিটের। এখানে তাপস ফোনে শেখ হাসিনাকে জানান যে, তিনি সিঙ্গাপুর যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন, কিন্তু বিদেশযাত্রার অনুমতিপত্র (জিও) না থাকায় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে আটকে দিয়েছে।
শেখ হাসিনা বিস্মিত হয়ে জানতে চান, "জিওটা সঙ্গে নিলে না কেন?"
তাপস জানান, তিনি অনুমতির জন্য আবেদন করেছেন, কিন্তু এখনো তা হাতে পাননি।
এরপর তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন, যেন ইমিগ্রেশন অফিসারকে ছাড় দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। শেখ হাসিনা তখন বলেন, "হ্যাঁ, বলা যাবে। ফাইল পাঠাইছ তো?"
তাপস জানান, ফাইল তিনি ‘প্রমিত মহদোয়’র কাছে পাঠিয়েছেন। জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, "আচ্ছা, দিয়ে দাও।"
এ পর্যায়ে তাপস ইমিগ্রেশন অফিসারের সঙ্গে ফোনে সরাসরি শেখ হাসিনার কথা বলানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু হাসিনা এতে অনীহা প্রকাশ করে বলেন, "না না, আমি তার সঙ্গে কথা বলব কেন। আমি অফিসের কর্মকর্তার মাধ্যমে বলিয়ে দিতে পারি।"
তাপস তখন জিজ্ঞেস করেন, "কাকে বলব তাহলে?"
শেখ হাসিনা উত্তর দেন, "আমার সেক্রেটারিকে বললেই হবে, শাহ সালাউদ্দিন।"
তাপস নিশ্চিত হয়ে আবার জিজ্ঞেস করেন, "সালাউদ্দিন সাহেব?"
জবাবে হাসিনা বলেন, "হ্যাঁ।"
ফাঁস হওয়া এই দুটি অডিও ক্লিপ সরকার পতনের পেছনে অভ্যন্তরীণ টানাপড়েন, অনাস্থা ও প্রশাসনিক টালমাটাল অবস্থার ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ক্ষমতাসীনদের পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি, উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ, ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর নানা চিত্র ফুটে উঠেছে এতে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যেই অডিও দুটি ভাইরাল হয়ে গেছে এবং তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।