জাতীয়
১৩ বছর পর ঢাকায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার
দুদিনের সরকারি সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। শনিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এটি প্রায় ১৩ বছর পর কোনো পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর, যা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন গতি আনার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই সফরকে "একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মাইলফলক" হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সফরের লক্ষ্য হিসেবে বলা হয়েছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করা এবং ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সংযোগ গড়ে তোলা।
এর আগে, চলতি বছরের এপ্রিলে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব আমনা বালোচ ঢাকা সফর করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার উচ্চপর্যায়ের এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মূলত এপ্রিলেই ইসহাক দারের ঢাকায় আসার কথা ছিল, তবে কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলার কারণে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সফরটি তখন পিছিয়ে যায়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সফরের দ্বিতীয় দিন (রোববার) ইসহাক দার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। প্রথমে দুই মন্ত্রীর একান্ত বৈঠক এবং পরে প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে দু’দেশের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হওয়ার কথা রয়েছে।
বৈঠকে ব্যবসা-বিনিয়োগ, জনসংযোগ, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজীকরণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বিষয় আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ পক্ষ থেকে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, বোঝাপড়া এবং অভিন্ন স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হবে।
এছাড়া রোববার বিকালে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে দারের।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় অবস্থানকালে দার বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন। তার মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসায় সাক্ষাৎ এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের আগস্টে সংঘটিত রাজনৈতিক পালাবদলের পর পাকিস্তান নতুনভাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সক্রিয় করতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই একের পর এক উচ্চপর্যায়ের সফর চলছে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০১২ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রাব্বানি খার ঢাকায় এসেছিলেন ডি-৮ সম্মেলনে অংশগ্রহণ ও আমন্ত্রণ জানানোর উদ্দেশ্যে। এরপর ২০২২ সালে তার আবার ঢাকা সফরের সম্ভাবনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।