অর্থনীতি
বৈরী আবহাওয়া ও সাগরে মাছ কম পাওয়ায় লোকসানে তীরে ফিরছেন জেলেরা
বৈরী আবহাওয়া ও সাগরে আশানুরূপ মাছ না পাওয়ায় পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মহিপুর-আলীপুর মৎস্য বন্দরে ফিরছে শত শত মাছধরা ট্রলার। সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে প্রত্যাশিত মাছ না পাওয়ায় মাত্র ২-৩ দিনের মধ্যেই ফিরে আসতে হচ্ছে অনেক ট্রলারকে। এতে প্রতিটি ট্রলারের মালিককে গুনতে হচ্ছে লাখ লাখ টাকার লোকসান।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) উপজেলার মহিপুর-আলীপুর মৎস্য বন্দর ঘুরে দেখা যায়, খাপড়াভাঙ্গা নদীর ঘাটে নোঙর করে আছে শত শত মাছধরা ট্রলার। কোনো কোনো ট্রলার থেকে সামান্য পরিমাণ মাছ খালাস করা হলেও অধিকাংশ ট্রলার প্রায় মাছশূন্য। আবার কিছু ট্রলার জ্বালানি, বরফ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে জেলেদের মধ্যে রয়েছে হতাশা ও অনিশ্চয়তা।
জেলে ছগির ঢাকা প্রকাশকে বলেন, সাগরে কয়েকদিন অবস্থান করেও অনেক সময় জাল ফেলে কাঙ্ক্ষিত মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে আবহাওয়া খারাপ হয়ে গেলে সাগরে অবস্থান করাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ফলে জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাধ্য হয়েই তীরে ফিরতে হচ্ছে।
মো. সাগর মাঝি বলেন, সাধারণত একটি মাছধরা ট্রলার সাগরে যাওয়ার আগে ৮-১০ দিনের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, বরফ, জ্বালানি তেল ও অন্যান্য সরঞ্জাম সংগ্রহ করে। এসব বাবদ প্রতিটি ট্রলারে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়। কিন্তু সাগরে যাওয়ার পর বৈরী আবহাওয়া এবং কাঙ্ক্ষিত মাছের দেখা না পাওয়ায় অনেক ট্রলারকে নির্ধারিত সময়ের আগেই তীরে ফিরতে হচ্ছে।
এ ছাড়া কাওছার, সুজন ও অনিল মাঝির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাগরে যাওয়ার আগে তারা ধারদেনা করে প্রয়োজনীয় বাজার-সদাই করেন। ট্রলার ফিরে এলে মাছ বিক্রির টাকা দিয়ে সেই খরচ পরিশোধের আশা থাকে। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ থাকায় কাঙ্ক্ষিত মাছ না নিয়ে ফিরে আসতে হয়েছে। ফলে একদিকে যেমন ট্রলার মালিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে জেলেদের দৈনন্দিন জীবনযাপনও কঠিন হয়ে পড়ছে।
ট্রলার মালিক আব্দুর জব্বার বলেন, একটি ট্রলার সাগরে পাঠাতে জ্বালানি, বরফ, খাবারসহ বিভিন্ন খাতে অনেক টাকা খরচ হয়। সাধারণত ৭-৮ দিনের প্রস্তুতি নিয়ে ট্রলার পাঠানো হয়। সাগর উত্তাল, মাছেরও আকাল। এতে দুই-তিন দিনের মধ্যে মাছ ছাড়া ফিরে এলে খরচের টাকাই ওঠে না। ফলে প্রতিবারই বড় ধরনের লোকসান হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজের টিকে থাকাই দায়।
অন্যদিকে, জেলেদের কাছ থেকে মাছ সংগ্রহ করে আড়তে বিক্রি করা ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন। সাগর থেকে মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় মৎস্য বন্দরের স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়ছে। এ ছাড়া বরফকল, পরিবহন শ্রমিক, জাল বিক্রেতা, জাল মেরামতকারী ও আড়ত শ্রমিকদের কাজ কম থাকায় পড়তে হচ্ছে আর্থিক সংকটে।
মৎস্য বন্দরের ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাগরে মাছের পরিমাণ কমে গেলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে পুরো মৎস্য অর্থনীতিতে। ট্রলার মালিক থেকে শুরু করে জেলে, আড়তদার, মাছ পরিবহনকারী ও শ্রমিকসহ সবাই কোনো না কোনোভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হন।
এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহাকে তার কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।