সারাদেশ
যমুনায় ফেলার সময় পিকআপভর্তি সরকারি ওষুধ জব্দ, চালক আটক
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ যমুনা নদীতে ফেলে দেওয়ার সময় পিকআপসহ চালককে আটক করেছেন স্থানীয়রা। পরে তাকে পিকআপ ও ওষুধসহ ভূঞাপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভূঞাপুর-যমুনা সেতু আঞ্চলিক মহাসড়কের গোবিন্দাসী টি-রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, একটি পিকআপভ্যানে করে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ যমুনা নদীর তীরে নেওয়া হয়। ওষুধগুলো নদীতে ফেলে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে তারা পিকআপটি আটকে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে ভূঞাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চালকসহ পিকআপটি থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয়দের ধারণা, হাসপাতালের রোগীদের মধ্যে বিতরণ না করা কিছু ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ায় সেগুলো নদীতে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছিল। তবে ওষুধগুলো কতটা মেয়াদোত্তীর্ণ এবং কী কারণে সেগুলো নদীর তীরে নেওয়া হয়েছিল, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পিকআপচালক আজমত জানান, ওষুধগুলো ঘাটাইল উপজেলা সরকারি হাসপাতালের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে এর আগেও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ফেলার দায়িত্ব পেয়েছিলেন তিনি। তখন ঘাটাইলের বনাঞ্চলের গভীরে নিয়ে ওষুধগুলো ফেলে দেওয়া হয়েছিল। এবারও একইভাবে ওষুধগুলো ফেলার জন্য তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে, জব্দ করা ওষুধের পরিমাণ যাচাই করতে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নির্দেশে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা থানার গোলঘরে ২০টি বস্তা খুলে দেখেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব বস্তায় বিপুল পরিমাণ ওষুধ রয়েছে। পিকআপে এর চেয়েও প্রায় দ্বিগুণ বস্তা রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি অর্থে কেনা ওষুধ অনেক সময় প্রয়োজন অনুযায়ী জনগণ না পেলেও সেগুলো নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম রেজাউল করিম জানান, গোবিন্দাসীর টি-রোড থেকে ঘাটাইল হাসপাতালের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধভর্তি একটি পিকআপ নদীতে ফেলে দেওয়ার সময় স্থানীয়রা চালককে আটক করেন। পরে পিকআপ ও চালককে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।
ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু নইম মোহাম্মদ সোহেল সরকারি ওষুধগুলো তাদের হাসপাতালের বলে নিশ্চিত করেছেন। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু বলেন, ওষুধগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ। তবে কাউকে না জানিয়ে যমুনা নদীতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা অন্যায়। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।