জাতীয়
‘চান্দাবিডি ডটকম’ চালু: প্রথম দিনেই ঢাকার অভিযোগ সর্বোচ্চ
চাঁদাবাজির অভিযোগ নথিভুক্ত, সংরক্ষণ ও প্রকাশের উদ্যোগে ‘চান্দাবিডি ডটকম’ নামে একটি ওয়েবসাইট চালু হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মে চাঁদাবাজির শিকার ব্যক্তি বা কোনো স্থানে চাঁদা দাবির ঘটনা সম্পর্কে জানা ব্যক্তিরা পরিচয় গোপন রেখে তথ্য দিতে পারবেন।
উদ্যোক্তাদের দাবি, চাঁদাবাজি, অবৈধ অর্থ দাবি এবং সেবা বা কাজকে কেন্দ্র করে আর্থিক হয়রানির অভিজ্ঞতা নথিবদ্ধ করতেই প্ল্যাটফর্মটি চালু করা হয়েছে। বিদেশের বিভিন্ন নাগরিক তথ্যভিত্তিক উদ্যোগ এবং ঘুষের অভিযোগ নথিবদ্ধের একটি প্ল্যাটফর্মের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এটি তৈরি করা হয়েছে। তবে উদ্যোক্তারা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করেননি।
ওয়েবসাইটটিতে চাঁদা দাবি, চাঁদার জন্য ভয়ভীতি দেখানো, নির্মাণকাজ বা ব্যবসাকে কেন্দ্র করে অবৈধ অর্থ দাবির মতো ঘটনার তথ্য দেওয়া যাবে। অভিযোগের সঙ্গে ঘটনার এলাকা, সময়, সংশ্লিষ্ট খাত, চাওয়া অর্থের পরিমাণ এবং ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।
তবে ওয়েবসাইটে জমা পড়া কোনো তথ্যকে আদালতে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ, তদন্তের ফলাফল কিংবা প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাদের ভাষ্য, এটি মূলত নাগরিকদের অভিজ্ঞতার একটি উন্মুক্ত নথি। এর মাধ্যমে কোন এলাকা বা খাতে চাঁদাবাজির অভিযোগ বেশি আসছে, সে বিষয়ে একটি প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাবে।
ভুল তথ্য, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং কারও ঠিকানা, ফোন নম্বরসহ ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ ঠেকাতে অভিযোগ প্রকাশের আগে তা যাচাই ও পর্যালোচনার আওতায় আনা হবে। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও সেটিকে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হবে না।
উদ্যোক্তারা বলছেন, কাউকে অপমান করা বা অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। বরং নাগরিকদের অভিজ্ঞতা দায়িত্বশীলভাবে নথিবদ্ধ করা, সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে সমস্যাগুলো তুলে ধরাই তাদের লক্ষ্য। ওয়েবসাইটটি ব্যবহারে কোনো হিসাব খোলার প্রয়োজন নেই এবং ব্যবহারকারীর নাম, ই-মেইল বা ফোন নম্বরও নেওয়া হয় না।
চালুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওয়েবসাইটটির উন্মুক্ত তালিকায় নয়টি অভিযোগ জমা পড়ে। এসব অভিযোগে মোট চাওয়া বা দেওয়া অর্থের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৯ লাখ ৬০ হাজার ৭০০ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে ঢাকা বিভাগ থেকে।
একটি অভিযোগে টঙ্গী পৌরসভা কার্যালয়ে ব্যবসার অনুমতিপত্র নবায়নের জন্য নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা চাওয়ার কথা বলা হয়েছে। অভিযোগটিতে ঘটনাটিকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজধানীর মিরপুরের ৬০ ফুট এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের কাজের সময় এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগও রয়েছে। এতে একজন রাজনৈতিক নেতার নাম ব্যবহার করে চাঁদা দাবি করার কথা বলা হলেও ওই নেতার সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হয়েছে বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।
পূর্ব শেওড়াপাড়ায় সড়ক উন্নয়নকাজের সময় বিভিন্ন ভবনের পানি ও গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তা পুনরায় চালু করে দেওয়ার বিনিময়ে ১০ হাজার টাকা করে চাওয়ার অভিযোগও জমা পড়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
এ ছাড়া পল্টন এলাকায় ময়লার বিলের নামে প্রতি মাসে ২০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সেখানে সিটি করপোরেশনের রসিদ ব্যবহার করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওয়েবসাইটটিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ভবন ও আবাসন, সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নকাজসহ বিভিন্ন খাতভিত্তিক বিভাগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ এই আট বিভাগ অনুযায়ী অভিযোগ দেখার সুযোগ রয়েছে।
অভিযোগ জমা দেওয়ার সময় ব্যবহারকারীরা ঘটনার এলাকা, সংশ্লিষ্ট সেবা বা খাত, আনুমানিক অর্থের পরিমাণ এবং চাঁদা দেওয়ার পর কী ঘটেছে, তা উল্লেখ করতে পারবেন। একই সঙ্গে অভিযোগে ব্যক্তিগত কারও নাম বা পরিচয় প্রকাশ না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।