জাতীয়
জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শুরু, যোগ দিলেন প্রধান উপদেষ্টা
‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন তিনি। এ সময় সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টা ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই সনদকে ঘিরে এটাই ছিল মূল আনুষ্ঠানিকতা, যা দিয়ে দেশের রাজনৈতিক সংস্কারের পথে নতুন অধ্যায় শুরু হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন স্তরে সংস্কারের উদ্যোগ নেয় তারা। এ লক্ষ্যে গঠিত হয় ছয়টি আলাদা কমিশন—সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, দুর্নীতি দমন, পুলিশ ও বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন।
এই কমিশনগুলোর সুপারিশ নিয়ে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে বসে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় মোট ৬৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা হয়।
ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দুই দফার আলোচনায় ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে দলগুলোর মধ্যে সম্মতিতে পৌঁছে ঐকমত্য কমিশন।
চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ১৬ আগস্ট রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ‘জুলাই সনদের’ খসড়া পাঠানো হয়। সংশোধনের পর ২০ আগস্টের মধ্যে মতামত জানানোর সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। এর পরও বিভিন্ন দফায় রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে সনদের ভাষা ও কাঠামো নির্ভুল করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
গত মঙ্গলবার সনদের চূড়ান্ত কপি সব রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠানো হয়।
অনুষ্ঠান ঘিরে সকাল থেকেই সংসদ ভবন এলাকায় টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়। জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ছাত্র-জনতা সকাল থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে অবস্থান নিয়ে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন- ১. রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, ২. ‘জুলাই আহত বীর’ হিসেবে সম্মাননা, এবং ৩. এসব দাবিকে জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত করা।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, সনদে তাদের স্বীকৃতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এরপরও তারা অবস্থান না ছাড়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হস্তক্ষেপ করে। এ সময় কিছু সময়ের জন্য ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।