জাতীয়
নির্বাচন ঘিরে তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক
আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে তিন বাহিনীর প্রধানদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
শনিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান। এ সময় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে জানানো হয়, বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও আসন্ন নির্বাচনে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা এ সময় তিন বাহিনীর সদস্যদের দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নিরলস পরিশ্রমের প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, “গত ১৫ মাসে সেনাবাহিনীসহ সব বাহিনীর সদস্যরা দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন। নির্বাচনের সময়ও একইভাবে দায়িত্বশীল ও পেশাদার আচরণের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দিতে হবে।”
প্রফেসর ইউনূস আরও বলেন, “ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হয়-সে লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
বৈঠকে তিন বাহিনীর প্রধানরা প্রধান উপদেষ্টাকে জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা পূর্ণ প্রস্তুতিতে রয়েছেন। জাতীয় নিরাপত্তা ও নির্বাচনি শান্তি বজায় রাখতে সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণ করা হবে।
প্রস্তুতিমূলক পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্বাচনের সময় মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রায় ৯০ হাজার সেনাসদস্য, আড়াই হাজার নৌবাহিনীর সদস্য এবং বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ ইউনিট মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি উপজেলায় একটি করে সেনা কোম্পানি দায়িত্ব পালন করবে, যাতে ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে।
এছাড়া, বৈঠকে আগামী ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসের আয়োজনে প্রধান উপদেষ্টাকে আমন্ত্রণ জানান তিন বাহিনীর প্রধান।
প্রধান উপদেষ্টা বৈঠক শেষে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় দেশ একটি অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার পাবে, যা গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করবে।