জাতীয়

হত্যার দুদিন পর মরদেহ বাথরুমে নিয়ে ২৬ টুকরো করে শামিমা ও জরেজ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৫৮ এএম

হত্যার দুদিন পর মরদেহ বাথরুমে নিয়ে ২৬ টুকরো করে শামিমা ও জরেজ
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর কদমতলী দনিয়া শনিরআখড়া এলাকার একটি বাসায় রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হককে হত্যাকাণ্ডের দুদিন পর তার লাশ বাথরুমে নিয়ে ২৬ টুকরো করে শামিমা ও নিহতের বন্ধু জরেজ মিয়া। এদের মধ্যে জরেজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। অন্যদিকে শামিমাকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) একটি টিম।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, হত্যার পেছনে মূলত পারিবারিক ও প্রেমিক সম্পর্ক সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব কাজ করেছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হকের সঙ্গে শামিমার সম্পর্ক গড়ে ওঠে পূর্বপরিচয়ের মাধ্যমে। পরে শামিমা তার প্রেমিক জরেজ মিয়ার সঙ্গে পরকীয়া শুরু করলে তিনজনের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে শামিমা ও জরেজ মিলে আশরাফুল হককে হত্যা করে। এরপর লাশ বাসায় রেখে, পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৩ নভেম্বর বাথরুমে নিয়ে ২৬ খণ্ডে ভাগ করা হয়।

এই খণ্ডিত লাশ পরে দুটি ড্রামে ভরে ঢাকা শহরের শাহবাগ জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের কোণে ফেলে পালিয়ে যান তারা।

শফিকুল ইসলাম আরও জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার ও ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ২৬ খণ্ড লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। লাশের খণ্ড-ফিঙ্গারের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হয় এবং পরে নিহতের বোন আনজিরা বেগম লাশ শনাক্ত করেন।

আনজিরা বেগম জানান, আশরাফুল হক রংপুরের বদরগঞ্জে কাঁচামালের ব্যবসায়ী ছিলেন। স্ত্রী লাকী বেগম ও দুই সন্তান নিয়ে গ্রামের বাড়িতে বসবাস করতেন। বুধবার রাতে স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা তার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। পরে জরেজ মিয়া ফোনটি রিসিভ করে আশরাফুল হক ব্যস্ত বলে জানায়।

পরিবারের সন্দেহ বাড়ার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাহবাগ থানায় খবর যায় যে, জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের কোণে দুটি নীল রঙের ড্রামের মধ্যে ২৬ খণ্ড লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রথমে লাশের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি, পরে ক্রাইমসিন ইউনিটের সাহায্যে শনাক্ত করা হয়।

ডিবি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, খুনের প্রধান আসামি জরেজ মিয়াকে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরদিকে র‍্যাব জানিয়েছে, হত্যার পর লাশ ২৬ খণ্ড করার ঘটনায় জড়িত নারী শামিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১৩ নভেম্বর একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শামিমা একটি সিএনজি ভাড়া করে ড্রাম বহন করার জন্য বাসার সামনে নিয়ে যায়।

শাহবাগ থানায় শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) নিহতের বোন আনজিরা বেগম হত্যাকাণ্ডের মামলা দায়ের করেন। মামলায় জরেজ মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি আশরাফুল হক রংপুরের বদরগঞ্জের শ্যামপুর গোপালপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের আব্দুর রশিদের পুত্র। পেশায় তিনি কাঁচামালের ব্যবসায়ী ছিলেন।