রাজনীতি

মির্জা ফখরুলের চেয়ারে সালাহউদ্দিন আহমদ, কী বার্তা দিল বিএনপি?


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম

মির্জা ফখরুলের চেয়ারে সালাহউদ্দিন আহমদ, কী বার্তা দিল বিএনপি?
ছবিঃ সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় সংসদের আসন ছাড়ার পর তার জায়গায় বসেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে নতুন আসনবিন্যাসে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের পাশের আসনটি পেয়েছেন তিনি। এতদিন ওই আসনে বসতেন মির্জা ফখরুল।

সংসদের প্রথম সারিতে প্রধানমন্ত্রীর পাশের আসনটি রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক গুরুত্বের দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। ফলে ফখরুলের আসনে সালাহউদ্দিনকে বসানোর বিষয়টি বিএনপির ভেতরে-বাইরে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। যদিও এটি সংসদের নিয়মিত আসনবিন্যাসের অংশ, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে এর মধ্যে দলটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রতীকী বার্তাও দেখছেন।

এদিকে সালাহউদ্দিন আহমদকে সংসদের উপনেতা করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আসেনি। উপনেতা কে হবেন, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন আসনবিন্যাসকে সরাসরি উপনেতা হওয়ার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে গুরুত্বপূর্ণ আসনে তাকে বসানোকে ইঙ্গিতবহ মনে করছেন অনেকে।

এর আগে সংসদ নেতা তারেক রহমানের পাশের আসনে বসতেন বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার পরের আসনে ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং এরপর সালাহউদ্দিন আহমদ।

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। একই সঙ্গে তার সংসদীয় আসন ঠাকুরগাঁও-১ শূন্য ঘোষণা করা হয়। নতুন আসনবিন্যাসে তার জায়গায় বসেছেন সালাহউদ্দিন। এরপরের আসনে রয়েছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং তার পরের আসনে বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

সালাহউদ্দিনের রাজনৈতিক ও সরকারি অবস্থানের কারণেও বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন বর্তমানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন। পাশাপাশি দলের সম্ভাব্য মহাসচিব হিসেবেও তার নাম আলোচনায় রয়েছে। ফলে সরকার ও দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা এই নেতাকে সংসদীয় কার্যক্রমে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আনার চিন্তা রয়েছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি এ ব্যাপারে কিছু জানেন না। এটি প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতার এখতিয়ার।

সংসদের উপনেতা পদটি সংসদ নেতার সহায়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ। সংসদ নেতার অনুপস্থিতিতে সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনায় উপনেতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। অতীতেও ক্ষমতাসীন দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের এ পদে রাখার নজির রয়েছে।

তবে বিএনপি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদ পূরণ করলেও এখনো সংসদ উপনেতার পদটি শূন্য রেখেছে। এই পদ নিয়ে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতার নজিরও রয়েছে। একাদশ সংসদে খালেদা জিয়া সংসদ উপনেতার পদটি শূন্য রেখেছিলেন। ২০০৮ সালের সংসদেও তিনি বিরোধীদলীয় উপনেতার পদ শূন্য রাখেন। তখন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নাম উপনেতা পদে আলোচনায় ছিল।

ফলে মির্জা ফখরুলের আসনে সালাহউদ্দিন আহমদকে বসানো আপাতত নতুন আসনবিন্যাস হলেও, এর মাধ্যমে তাকে সংসদে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার কোনো প্রস্তুতি রয়েছে কি না—তা স্পষ্ট হবে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এলে।