সারাদেশ
হত্যার পর ছাদজুড়ে পানি ঢালল কে? রংপুরের আলোচিত হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড়
রংপুরে আলোচিত চারজনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে পানি পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের বড় ভাই পার্থ দাস পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের আলামত নষ্টের অভিযোগ তুলেছেন। তবে অভিযোগটি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে পুলিশ।
পার্থ দাসের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের পর গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয়েছে। তার দাবি, তার ভাই সিদ্ধার্থ দাসকে এই হত্যাকাণ্ডে ফাঁসানো হচ্ছে।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশের উপপরিদর্শক আব্দুল হাকিম বলেন, ভুল করে মোটরের সুইচ চালু হয়ে গিয়েছিল। পানির ট্যাংকি পূর্ণ হওয়ার পর মোটর বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর সঙ্গে আলামত নষ্ট করার কোনো সম্পর্ক নেই।
একই বিষয়ে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ওই বাড়িতে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ পাহারা রয়েছে। লাইটের সুইচ চালু করতে গিয়ে ভুলবশত মোটরের সুইচও চালু হয়ে যায়। বাড়ির ভেতরের কোথায় কী রয়েছে, পুলিশ তা জানত না। পরে ট্যাংকির পানি উপচে ছাদে পড়ে। তাই আলামত নষ্টের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
তিনি আরও বলেন, লাশ উদ্ধারের সময়ই প্রয়োজনীয় আলামত সংরক্ষণ করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে রংপুরের একটি তালাবদ্ধ বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা, স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরদিন রোববার নিহতদের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। একই দিন ভোরে ওই এলাকা থেকে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস নামে দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, ওই রাতেই তারা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পরে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের বন্ধু সীমান্ত আদালতে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। পুলিশ দাবি করেছে, ঘটনার রাতে তারা তিনজন একসঙ্গে ইয়াবা সেবন করেছিলেন।
এদিকে শনিবার (২৯ আগস্ট) এ ঘটনায় অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ দাসের বাবা ও বড় ভাইকে গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।