সারাবিশ্ব
পাকিস্তানে ঘন ঘন ওঠানামা করছে তুরস্কের সামরিক বিমান, উদ্বিগ্ন ভারত
পাকিস্তানের বিভিন্ন বিমানঘাঁটিতে তুরস্কের সামরিক পরিবহন বিমানের ঘনঘন যাতায়াত নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ভারতে। গত ১৯ থেকে ২১ আগস্ট মাত্র ৬০ ঘণ্টায় পাকিস্তানের তিনটি বিমানঘাঁটিতে তুরস্কের একাধিক সামরিক বিমান ওঠানামা করেছে বলে জানা গেছে। বিষয়টিকে সম্ভাব্য সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখছেন ভারতের প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার (২৯ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
উন্মুক্ত সূত্রভিত্তিক ফ্লাইট পর্যবেক্ষণের তথ্য অনুযায়ী, ওই তিন দিনে পাকিস্তানের নূর খান, মাসরুর ও মুরিদ বিমানঘাঁটিতে তুরস্কের সি-১৩০ হারকিউলিস ও এ৪০০এম মডেলের সামরিক পরিবহন বিমান অবতরণ করে। এসব বিমানের মধ্যে ‘টিইউএএফ৫২৬’ কলসাইন ব্যবহারকারী একটি বিমানও ছিল।
তবে এসব বিমানে কী ধরনের সরঞ্জাম বা পণ্য পরিবহন করা হয়েছে, সে বিষয়ে তুরস্ক বা পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ভারতীয় প্রতিরক্ষা মহলে ধারণা করা হচ্ছে, পাকিস্তানের জন্য সামরিক সরঞ্জাম এসব বিমানে করে আনা হয়ে থাকতে পারে। এর মধ্যে ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
এ নিয়ে আরও আলোচনা চলছে তুরস্কের বায়কারের তৈরি নতুন প্রজন্মের কামিকাজে ড্রোন কে-২ এবং আসিসগার্ডের বিভিন্ন ড্রোন ব্যবস্থা নিয়ে। ভারতীয় প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্টদের একাংশের ধারণা, তুরস্কের সামরিক পরিবহন বিমানের মাধ্যমে এসব সরঞ্জামও পাকিস্তানে পৌঁছাতে পারে।
তুরস্কের সামরিক বিমানের এই তৎপরতা ৭ আগস্ট পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের পর বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এ কারণে পাকিস্তানে তুরস্কের সামরিক বিমানের ঘনঘন যাতায়াতকে সম্ভাব্য আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখছে ভারত। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের নতুন কোনো সংঘাতের প্রস্তুতি চলছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ভারতের দাবি, গত বছরের মে মাসে ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর আগেও চীন ও তুরস্ক পাকিস্তানকে বিভিন্ন ধরনের উন্নত সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছিল। এর মধ্যে চীনের পিএল-১৫ আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং এইচকিউ-৯ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল বলে দাবি করেছে ভারত।
এ ছাড়া তুরস্কের তৈরি বায়রাকতার ড্রোন এবং আসিসগার্ড সংস্থার সোঙ্গার কামিকাজে ড্রোনও পাকিস্তানকে সরবরাহ করা হয়েছিল বলে ভারতীয় পক্ষের দাবি। যুদ্ধ চলাকালে চীন ও তুরস্ক পাকিস্তানকে যুদ্ধক্ষেত্রের তাৎক্ষণিক তথ্য ও কৌশলগত সহায়তা দিয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।