জাতীয়
সব জানা যায় না, কিছু তথ্য গোপনীয় : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
বাংলাদেশে কারও নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে এবং সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সব নাগরিকের জন্যই সমানভাবে কার্যকর।
দিনের শুরুতে তিনি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঝুঁকিপূর্ণ ও অঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোতায়েন, বডি ওর্ন ক্যামেরা সংগ্রহের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট বাহিনীর প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এলাকাগুলোর ঝুঁকির মাত্রাও বদলাতে পারে, ফলে চূড়ান্ত তালিকা পরে জানানো হবে।
বডি ওর্ন ক্যামেরা সংগ্রহের বিষয়ে তিনি বলেন, “সংখ্যা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। আমাদের যত প্রয়োজন, ততই কিনব।” তবে ঠিক কতগুলো ক্যামেরা কেনা হবে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করেন, “কিছু তথ্য গোপনীয় থাকে, সব জানানো যায় না। আমাদের কাছে কী কী সক্ষমতা আছে, তা সবসময় প্রকাশ করা হয় না।”
তারেক রহমানের নিরাপত্তা ও দেশে ফেরার প্রসঙ্গেও সাংবাদিকরা প্রশ্ন রাখেন। জবাবে তিনি জানান, এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “এই বাংলাদেশে কারও নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। যাদের বিশেষ নিরাপত্তা প্রয়োজন, তাদের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
ফোনে আড়িপাতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “শুধু অনুমোদিত সংস্থাই নজরদারি পরিচালনা করতে পারে; অনুমোদনবিহীন কারও আড়িপাতা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।”
পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ পড়ার পর এ বিষয়ে মন্তব্য করবেন।