জাতীয়

জাতীয় চিড়িয়াখানায় অব্যবস্থাপনা, রয়েছে জনবল সংকটও 


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৫৭ পিএম

জাতীয় চিড়িয়াখানায় অব্যবস্থাপনা, রয়েছে জনবল সংকটও 
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় চিড়িয়াখানায় অসংখ্য অব্যবস্থাপনার নেপথ্যে রয়েছে জনবল সংকট। ১৩৭ খাঁচার জন্য যেখানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৫৪৮ জনবল প্রয়োজন সেখানে আছে মাত্র ১০৮ জন। তারা আবার অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে নিরাপত্তাকর্মীর কাজও করছেন।

বর্তমানে ১৮৭ একর জায়গার ওপর জাতীয় চিড়িয়াখানায় ১৩৭টি খাঁচায় ১৩৫ প্রজাতির ৩ হাজার ৩৪২টি প্রাণী আছে। এর মধ্যে ৩৩ প্রজাতির ৬১টি প্রাণী স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল অতিক্রম করেও ভালো আছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, চিড়িয়াখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জনবল সংকট, দুর্বল অবকাঠামো, পর্যবেক্ষণ ঘাটতি এবং দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণের অভাব রয়েছে। অনেক খাঁচায় লক ও গ্রিলের মান পুরোনো হয়ে গেছে।

জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক জনবল সমস্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, চিড়িয়াখানার মূল পদ আছে ২৩৭টি, এর মধ্যে ১৬২টি পদ শূন্য। ২৫ জন নিরাপত্তাকর্মী আছেন। আর আনসার আছেন ২০। নিয়োগ বিধি জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে জনবল নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না।

তাই নিয়োগ বিধি সংশোধন করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে ৬৮ জনকে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে আরো ৩৫ জনকে ১৫ দিনের মধ্যে নিয়োগ দেওয়া হবে।

ড. মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম বলেন, মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী চিড়িয়াখানার আধুনিকায়নে ১০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা ও রংপুর চিড়িয়াখানার আধুনিকায়ন (প্রথম পর্যায়) শিরোনামের একটি প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এই মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন হলে সব সংকটের সমাধান হবে। 

জানা গেছে, গত তিন বছর নতুন কোনো প্রাণী ক্রয় করেনি জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি পাঁচ বছরের জন্য পশু কেনার অনুমোদন দিয়েছে বর্তমান সরকার। এ বছর চার প্রাণীসহ পাঁচ অর্থবছরে বিদেশ থেকে ৩৫ প্রজাতির ১৯৬টি প্রাণী কেনার পরিকল্পনা করেছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

এদিকে সিংহী ডেইজির ঘটনার পর চিড়িয়াখানার নিরাপত্তার বিষয়টিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পর সামনে এসেছে জাতীয় চিড়িয়াখানার ভয়াবহ জনবল সংকটের বিষয়টি। জাতীয় চিড়িয়াখানাটি ১৯৬২ সালের ডিজাইনে করা। তাই এটার আধুনিকায়ন জরুরি।