জাতীয়

নবম পে-স্কেল নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে যেসব সিদ্ধান্ত হলো


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:২৭ এএম

নবম পে-স্কেল নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে যেসব সিদ্ধান্ত হলো
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেল নিয়ে জাতীয় বেতন কমিশনের রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষ হয়েছে।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া এ বৈঠক রাত ৮টা পর্যন্ত চলে। বৈঠকে পে-স্কেল সংক্রান্ত বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ খসড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সভা সূত্রে জানা যায়, পূর্ণ কমিশনের এই বৈঠকে কমিশনের প্রস্তুত করা ড্রাফট রিপোর্ট নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। আলোচনার পর কয়েকটি বিষয়ে সংশোধনী আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব সংশোধনী চূড়ান্ত করতে আগামীতে আরও অন্তত তিনটি পূর্ণ কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সব আলোচনা শেষে কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেবে।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া তিন ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে জাতীয় বেতন কমিশন তাদের সুপারিশসহ পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেবে। দ্বিতীয় ধাপে ওই রিপোর্ট সচিব কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হবে। সচিব কমিটির অনুমোদনের পর তা উপদেষ্টা পরিষদের সভায় পাঠানো হবে। উপদেষ্টা পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর নতুন পে-স্কেল সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে।

বৈঠকে উপস্থিত কমিশনের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় গণমাধ্যমকে জানান, নবম পে-স্কেলের খসড়া ড্রাফট প্রস্তুত রয়েছে। তবে কিছু বিষয়ে সংশোধন প্রয়োজন হওয়ায় আরও কয়েকটি বৈঠক করতে হবে। সবকিছু চূড়ান্ত করেই কমিশন রিপোর্ট জমা দেবে। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই রিপোর্ট জমা দেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে বলে জানান তিনি।

গ্রেড সংখ্যা ও প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো সম্পর্কে জানতে চাইলে ওই সদস্য বলেন, ড্রাফট এখনো চূড়ান্ত হয়নি। চূড়ান্ত হওয়ার আগে বেতন ও গ্রেড নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তবে কমিশন কোনো অতিরঞ্জিত প্রস্তাব দেবে না। বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সুপারিশই করা হবে।
জানা গেছে, নবম পে-স্কেল নিয়ে বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের কাছ থেকে পাওয়া মতামতগুলো জাতীয় বেতন কমিশন গভীরভাবে বিশ্লেষণ করছে। যদিও এখনো পুরো প্রতিবেদন লেখার কাজ সম্পন্ন হয়নি বলে কমিশন সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে পে-স্কেলের দাবিতে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিলেও সাম্প্রতিক সময়ে সচিবালয়ে আন্দোলনকারীদের দমন প্রক্রিয়া এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্দোলন-পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে আন্দোলনরত বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। ফলে আপাতত কঠোর কর্মসূচির পথে না গিয়ে তারা সরকারের সিদ্ধান্ত ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের বক্তব্য পর্যবেক্ষণ করে নতুন করে কর্মসূচি নির্ধারণের কথা ভাবছেন।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি জিয়াউল হক গণমাধ্যমকে বলেন, পে-স্কেলের দাবিতে অবশ্যই তারা তাদের দাবি তুলে ধরবেন। তবে সব দাবি রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে আদায় করতে হবে—এমনটা তারা মনে করেন না। আলোচনার মাধ্যমেই দাবি আদায়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সচিবালয়ে সাম্প্রতিক অপ্রীতিকর ঘটনার কারণে বাইরের কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, এসব বিষয় বিবেচনা করেই ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক ওয়ারেছ আলী বলেন, সরকারি চাকরিজীবীরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে চাকরির বিধিমালা ও শৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে কোনো কর্মসূচি দিতে পারেন না। তাই তারা আইন ও বিধিমালার মধ্যেই থেকে কর্মসূচি পালন করবেন। শৃঙ্খলা বহির্ভূত কোনো কর্মসূচি দেওয়া হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

জাতীয় বেতন কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে কমিশনের সদস্য ড. মোহাম্মদ আলী খান, মো. ফজলুল করিম, মো. মোসলেম উদ্দীন, সদস্য সচিব মো. ফরহাদ সিদ্দিকসহ খণ্ডকালীন সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে গত জুলাই মাসে অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে কর্মচারী সংগঠনগুলোর দাবি, আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করতে হবে।