জাতীয়
ওসমান হাদি হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত: ডিবি প্রধান
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই যোদ্ধা শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
গতকাল রোববার রাতে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট–ফেজ–২’ এবং দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অগ্রগতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
হত্যাকাণ্ডের মোটিভ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে ডিবি প্রধান বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি ব্যক্তিগত শত্রুতার ঘটনা বলে মনে হচ্ছে না। বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মূল অভিযুক্ত ফয়সাল ও আলমগীরকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তারা গ্রেপ্তার না হওয়ায় হত্যার পেছনের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তিনি জানান, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে এ পর্যন্ত মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যার ঘটনার পরপরই ডিএমপির সব ইউনিটকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযানে নামার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে এই ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, অস্ত্র, গুলি এবং একটি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অভিযানে র্যাব, পুলিশ ও বিজিবি যৌথভাবে অংশ নেয়।
হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড কারা—এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন। মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।
ডিবি প্রধান আরও বলেন, ফয়সাল ও আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা এখনো সম্ভব হয়নি, কারণ অপরাধীরা সাধারণত নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেয় না এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। তিনি জানান, ফয়সালের বাবা মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট পরিবর্তন করেছিলেন। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত নম্বর প্লেট শনাক্ত করা হয়েছে। বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য এবং অন্যান্য প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, উদ্ধার করা চেকগুলো বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ইস্যু করা। এসব চেকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ফয়সাল করিম মাসুদের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডিবি প্রধান বলেন, তাকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। সাংবাদিকদের মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও বিভিন্ন সূত্র থেকে নানা তথ্য পাচ্ছে। তবে সব তথ্য যাচাই-বাছাই করেই পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
ডিবি প্রধান আশ্বাস দেন, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।