জাতীয়

অনির্দিষ্টকালের জন্য দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা মোবাইল ব্যবসায়ীদের


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম

অনির্দিষ্টকালের জন্য দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা মোবাইল ব্যবসায়ীদের
ছবি: সংগৃহীত

এনওসি প্রক্রিয়া সহজ করা ও করহার কমানোর দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে মোবাইল ব্যবসা–সংক্রান্ত সব দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে সংগঠনটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শামীম মোল্লা এ ঘোষণা দেন।

তিনি জানান, মোবাইল ফোন আমদানির ক্ষেত্রে বিটিআরসি নির্ধারিত মাদার কোম্পানি এনওসি, লোকাল এনওসি ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল এনওসি—এই তিন ধরনের অনুমোদন প্রক্রিয়া জটিল হওয়ায় ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। এসব এনওসি সহজীকরণের পাশাপাশি মোবাইল আমদানিতে মোট করহার সর্বোচ্চ ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবহৃত (ইউজড) মোবাইল ফোন আমদানির জন্য পৃথক নীতিমালা প্রণয়নের দাবিও তুলে ধরেন তিনি।

শামীম মোল্লা বলেন, এসব দাবি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, এনবিআর, বিটিআরসি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা হয়েছে। প্রথমে ছয় মাস সময় চাওয়া হলেও পরে তিন মাসের একটি ‘গ্রেস পিরিয়ড’ দেওয়ার আশ্বাস পাওয়া যায়। ওই সময়ের মধ্যে পুরোনো স্টক বিক্রির সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে এনইআইআর কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

তবে এনইআইআর চালুর পর অনেক গ্রাহকের মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ব্যবসায়ীরা বিটিআরসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিলেও বৈঠক না হওয়ায় তারা সেখান থেকে বের হয়ে যান। এ সময় বিটিআরসি ভবনের পূর্ব পাশে একদল লোক ভাঙচুর চালায়। ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার পর এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে এবং ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারও তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে।

মোবাইল আমদানিতে শুল্ক কমানোর সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে শামীম মোল্লা বলেন, আগে যেখানে করহার ছিল প্রায় ৬১ শতাংশ, তা কমিয়ে ৪৩ শতাংশ করা হয়েছে। কিন্তু এই হারও অত্যধিক এবং দেশের অন্য কোনো খাতে এত বেশি কর নেই বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, দাবি পূরণ এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত মোবাইল ব্যবসা–সংক্রান্ত সব দোকান বন্ধ থাকবে। পরবর্তী কর্মসূচি সময়মতো ঘোষণা করা হবে।

উল্লেখ্য, অবৈধ ও অনানুষ্ঠানিক মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর)। এই ব্যবস্থার আওতায় মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত সব ফোনের আইএমইআই নম্বর জাতীয় ডাটাবেইজে সংযুক্ত করা হচ্ছে।