জাতীয়

আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা ছিল শতভাগ: রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:০২ পিএম

আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা ছিল শতভাগ: রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন
মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নানা চাপ, অপসারণের চেষ্টা ও ‘চক্রান্তের’ মুখে পড়লেও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় অবিচল ছিলেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। ওই কঠিন সময়ে বিএনপির কাছ থেকে তিনি ‘শতভাগ সমর্থন’ পেয়েছেন বলেও দাবি করেছেন রাষ্ট্রপ্রধান।

গত শুক্রবার রাতে দৈনিক কালের কণ্ঠ–কে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। সোমবার সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করা হয়।

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাকে অপসারণের চেষ্টা, বিদেশ সফর আটকে দেওয়া, কূটনৈতিক মিশন থেকে তার ছবি নামিয়ে ফেলা এবং বঙ্গভবনের প্রেস উইং প্রত্যাহারের মতো ঘটনা ঘটেছে। “এক রাতের মধ্যে সারা পৃথিবীর সব হাই কমিশন থেকে আমার ছবি নামিয়ে দেওয়া হলো। বহু বছরের রেওয়াজ রাতারাতি শেষ করে দেওয়া হলো,” বলেন তিনি।

রাষ্ট্রপতির ভাষ্য, এই সংকটময় সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং তাদের জোটসঙ্গীরা সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেয়। বিশেষ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা শতভাগ ছিল।”

২২ অক্টোবর ২০২৪ বঙ্গভবন ঘেরাওয়ের প্রসঙ্গ টেনে রাষ্ট্রপতি বলেন, ওই রাতে পরিস্থিতি ছিল ‘বিভীষিকাময়’। তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সশস্ত্র বাহিনীর দৃঢ় অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তিনি জানান, সেনাবাহিনীসহ তিন বাহিনীর প্রধানরা অসাংবিধানিক কোনো উদ্যোগ মেনে নেবেন না-এমন আশ্বাস তাকে মনোবল জুগিয়েছে।

রাষ্ট্রপতি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. ইউনূস সংবিধানের বিধান অনুযায়ী তার সঙ্গে সমন্বয় করেননি। বিদেশ সফর শেষে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। এমনকি কাতারের আমিরের আমন্ত্রণে একটি আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার বিষয়েও তার সফর আটকে দেওয়া হয় বলে জানান।

রাষ্ট্রপতির আরও অভিযোগ, বঙ্গভবনের প্রেস সেক্রেটারি, ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি ও অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রেস সেক্রেটারিকে প্রত্যাহার করে পুরো প্রেস উইং ‘নিল’ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে কোনো প্রেস রিলিজ দেওয়ার সুযোগও নেই বলে তিনি জানান।

সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, “সবকিছু সহ্য করে আমি শুধু একটাই লক্ষ্য ধরে রেখেছিলাম-সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা।”