জাতীয়
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের গভীর উদ্বেগ
ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতি ও ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। শনিবার রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক শেষে এ উদ্বেগের কথা জানানো হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র সচিব। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি তেহরানে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের প্রধানের সঙ্গেও টেলিফোনে আলোচনা করা হয়।
বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আকাশপথ ও আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে গমনরত বাংলাদেশি কর্মীদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতি হলে মধ্যপ্রাচ্যে গমনেচ্ছু এবং বর্তমানে আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশ এ বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছে বলে জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে অবস্থানরত প্রবাসী কর্মীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছে। পাশাপাশি উদ্ভূত পরিস্থিতি দ্রুত সমাধানে মধ্যপ্রাচ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তেহরানে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের স্থাপনা, কূটনীতিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি ইরানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম ইতোমধ্যেই শুরু করা হয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে আলোচনা-প্রক্রিয়ার ব্যর্থতা এবং সাম্প্রতিক বিরোধ তীব্রতর হওয়া নিয়ে বাংলাদেশ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ পুনর্ব্যক্ত করে জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন অপরিহার্য। বাংলাদেশের দৃঢ় বিশ্বাস-সংঘাত কখনো স্থায়ী সমাধান বয়ে আনে না; বরং সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি প্রতিশ্রুতির মাধ্যমেই বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি সম্ভব।
এ কারণে বাংলাদেশ সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, উত্তেজনা পরিহার এবং অবিলম্বে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বান জানাচ্ছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার পক্ষে বাংলাদেশের সুসংহত ও নীতিগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিও শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও সংলাপের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।