জাতীয়

জ্বালানি সংকটে হোম অফিস ও অনলাইন ক্লাসের পরিকল্পনা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম

জ্বালানি সংকটে হোম অফিস ও অনলাইন ক্লাসের পরিকল্পনা
ছবি: এআই

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ এক মাস পেরিয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তৈরি হয়েছে তীব্র অস্থিরতা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় তেল ও এলএনজি সংকট ‘নজিরবিহীন’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, প্রাইম মিনিস্টার্স অফিস বাংলাদেশ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ যৌথভাবে আপাতত ৯০ দিনের একটি স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এ পরিকল্পনায় সরকারি কার্যক্রমে জ্বালানি ব্যবহার কমানোর জন্য একাধিক বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে-সাপ্তাহিক ছুটি এক দিন বাড়ানো, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সপ্তাহে দুই দিন ‘হোম অফিস’ বা বাসা থেকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া, অফিস সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সপ্তাহের অর্ধেক ক্লাস অনলাইনে নেওয়া। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে জ্বালানি ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইতোমধ্যে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে নিজ নিজ খাতে জ্বালানি সাশ্রয়ের প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনেক মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই কৃচ্ছ্রসাধনমূলক পদক্ষেপের খসড়া প্রস্তুত শুরু করেছে, যা আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।

সূত্রগুলো আরও জানায়, পরিস্থিতি আরও জটিল হলে সরকার মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলেও যেতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি; বিষয়গুলো মন্ত্রিসভার বৈঠকে পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এসব সিদ্ধান্ত আরও আগে নেওয়া উচিত ছিল। প্রয়োজনে বিশেষ মন্ত্রিসভা বৈঠকও ডাকা হতে পারে বলে তিনি মত দেন।

এদিকে মিনিস্ট্রি অব পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বাংলাদেশ থেকে ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার না করে জানালা ও দরজা খোলা রেখে আলো ব্যবহার করতে হবে।

এছাড়া অফিস চলাকালে প্রয়োজনীয় সংখ্যক লাইট, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এয়ার কন্ডিশনারের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি রাখতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, অফিস কক্ষ ত্যাগের সময় সব ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি- যেমন বাতি, ফ্যান ও এসি-বন্ধ রাখতে হবে। করিডোর, সিঁড়ি ও ওয়াশরুমে অপ্রয়োজনীয় আলো ব্যবহার বন্ধ রাখার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। অফিস সময় শেষে সব যন্ত্রপাতি বন্ধ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে এ ধরনের সাশ্রয়ী পদক্ষেপই অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।