জাতীয়
জামায়াত এমপি গাজী নজরুলের ‘পদ বাতিল’ নিয়ে যা জানালেন ইসি মাছউদ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে দলীয় বহিষ্কারের কারণে তার সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল নিজস্ব সিদ্ধান্তে কোনো সংসদ সদস্যকে বহিষ্কার করলেই আইন অনুযায়ী তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়ে যায় না। এ বিষয়ে সংবিধান ও আইনে নির্ধারিত একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের স্পিকার বা সংসদ থেকে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হলে কমিশন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য শুনবে। এরপর সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিষয়টি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং তা স্পিকারকে জানানো হবে।
আব্দুর রহমানেল মাছউদ আরও বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্য স্বেচ্ছায় দলত্যাগ করলে অথবা সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হতে পারে। তবে কোনো রাজনৈতিক দল কাউকে বহিষ্কার করলেই সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে—এমন বিধান সংবিধানে নেই।
তিনি জানান, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ এবং সংসদ সদস্য বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্যের যোগ্যতা বা আসন শূন্য হওয়া নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে স্পিকার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে পারেন। এরপর কমিশন শুনানি নিয়ে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দেবে।
এর আগে ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষে বিষয়টিকে নৈতিক স্খলন হিসেবে উল্লেখ করে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানোর কথাও জানায় দলটি।