জাতীয়
মার্কিন বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা, বাংলাদেশ সফরে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের ৪৫ কর্মকর্তা
বাংলাদেশে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ অনুসন্ধান এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪৫ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাংলাদেশ সফরে আসছেন। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সফর বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আজ শনিবার (০১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাইরে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
তিনি জানান, সফররত প্রতিনিধিদল সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করবেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও তাদের বৈঠকের কথা রয়েছে। এসব বৈঠকে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে।
মাহ্দী আমিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকেও দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলের সফর বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।
তিনি আরও জানান, আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।
গত পাঁচ মাসে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন নীতি ও সংস্কারমূলক পদক্ষেপেরও প্রশংসা করেছে মার্কিন পক্ষ বলে জানান মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, বহুমাত্রিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের প্রতি আস্থা বাড়ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) সর্বশেষ ট্রাভেল অ্যাডভাইজারিও বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে এসে নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনা অনুসন্ধানে আরও উৎসাহিত হবেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও সম্প্রসারিত হবে এবং দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ত্বরান্বিত হবে।