জাতীয়

আ. লীগ শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ ট্রাস্টের টাকাও লুটপাট করেছিল: প্রধানমন্ত্রী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম

আ. লীগ শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ ট্রাস্টের টাকাও লুটপাট করেছিল: প্রধানমন্ত্রী
ছবিঃ সংগৃহীত

বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দেশের প্রতিটি খাতেই লুটপাটের ধারা প্রতিষ্ঠা করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরাও এর বাইরে ছিলেন না বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
 
আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধার পাওনা টাকা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান অভিযোগ করেন, শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্টে জমা থাকা অর্থ দুর্বল বিভিন্ন ব্যাংকে স্থানান্তর করে আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের অনৈতিক সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে ২০২২ সাল থেকে দীর্ঘ চার বছর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের প্রাপ্য অর্থ থেকে বঞ্চিত হন।

অনুষ্ঠানে কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই অনলাইনের মাধ্যমে এক লাখ ২৩ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীর ব্যাংক হিসাবে দীর্ঘদিনের বকেয়া টাকা একযোগে হস্তান্তর করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকেরা যাতে কর্মজীবন শেষে শূন্য হাতে বিদায় না নেন, সে লক্ষ্যেই ১৯৯১ সালে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করা হয়। পরে ২০০১ সালে সরকার গঠনের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অবসর সুবিধা চালু করা হয়।

বেসরকারি শিক্ষকদের অবসরভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ পেতে অতীতে নানা ধরনের ভোগান্তি ও অনিয়মের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষককে প্রাপ্য অর্থ পেতে যেন হয়রানি, বিড়ম্বনা বা অনিয়মের মুখোমুখি হতে না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নজরদারি করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, তিনি ছিলেন শিক্ষার্থীবান্ধব। তার সরকারের সময় নারীদের উপবৃত্তি ও বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ চালু করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য ও শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দেশের ৬৪ জেলা থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে তাদের অনুভূতি ও প্রতিক্রিয়া জানান।