জাতীয়

৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট আজ, লড়াইয়ে মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫১ এএম

৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট আজ, লড়াইয়ে মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদ
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বাংলাদেশে আবারও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের সংসদকক্ষে বেলা দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে ভোটার হিসেবে রয়েছেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য।

রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুজন। ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ। সংসদে বিএনপির ২৪৭ জন সদস্য থাকায় সংখ্যার দিক থেকে মির্জা ফখরুলের জয় প্রায় নিশ্চিত। তবে দুজন প্রার্থী থাকায় তফসিল অনুযায়ী ভোট গ্রহণ করতেই হচ্ছে।

১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ওই বছর প্রথমবার সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এরপর টানা সাতজন রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ভোটের প্রয়োজন হয়নি। এবার দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গোপন নয়। সংসদ সদস্যরা ব্যালটে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন। নতুন রাষ্ট্রপতি আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটায় বঙ্গভবনে শপথ নেবেন বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ।

গত ২৪ জুলাই আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচনে নির্বাচনী কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। সংসদের নিয়মিত অধিবেশন চলমান না থাকায় ভোট গ্রহণের জন্য সংসদ সদস্যদের আলাদা বৈঠক ডাকা হয়েছে। ওই বৈঠকে সভাপতিত্বের পাশাপাশি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বও পালন করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসেই ভোট দেবেন। প্রথমে ব্যালট পেপারের মুড়ি অংশে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করে ব্যালট সংগ্রহ করবেন তারা। এরপর মূল ব্যালটে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন।

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনরত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালও সংসদ সদস্য হিসেবে ভোট দেবেন। তাদের ভোট দেওয়ার জন্য সংসদকক্ষে আলাদা আসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে।

বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেও সংসদ সদস্য হওয়ায় ভোট দিতে পারবেন। তবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের দিন তার সংসদীয় আসন শূন্য হয়ে যাবে। অন্যদিকে অলি আহমদ সংসদ সদস্য নন, তাই তিনি এই নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না।

গতকাল বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, ভোট গ্রহণের শুরুতে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনরত স্পিকার ও প্রধানমন্ত্রীর ভোট দেওয়ার দৃশ্য বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এরপর সম্প্রচার বন্ধ থাকবে। ভোট গণনার সময় আবার সম্প্রচার শুরু হবে। গণনা শেষে সংসদকক্ষেই ফল ঘোষণা করবেন নির্বাচনী কর্তা। পরে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।

সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনসহ জাতীয় সংসদের মোট আসন ৩৫০টি। তবে আদালতের নির্দেশের কারণে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফল এখনো ঘোষণা হয়নি। ফলে বর্তমানে সংসদ সদস্য এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার সংখ্যা ৩৪৯ জন।

বর্তমানে বিএনপির সংসদ সদস্য রয়েছেন ২৪৭ জন। দলটির মিত্র বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, গণ অধিকার পরিষদ ও গণসংহতি আন্দোলনের একজন করে সংসদ সদস্য রয়েছেন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের সংসদ সদস্য রয়েছেন ৯০ জন। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর ৭৭ জন এবং জামায়াতের সমর্থনে নির্বাচিত জাগপার একজন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির আটজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তিনজন এবং খেলাফত মজলিসের একজন সংসদ সদস্য রয়েছেন।

১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ওই নির্বাচনে বিএনপি ১৪০টি এবং আওয়ামী লীগ ৮৮টি আসন পায়। জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনে সরকার গঠন করে বিএনপি। একই বছর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।

এরপর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলগুলো আর কোনো প্রার্থী দেয়নি। ফলে পরবর্তী সাতটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। এবার বিরোধী জোট প্রার্থী দেওয়ায় ৩৫ বছর পর আবারও সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।