জাতীয়

কাল বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন, আলোচনায় যেসব ইস্যু


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম

কাল বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন, আলোচনায় যেসব ইস্যু
ছবি: সংগৃহীত

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৩টায় বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন। সংক্ষিপ্ত এ অধিবেশনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংসদীয় কমিটি গঠন এবং সংবিধান সংস্কার নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, গত ১৫ জুলাই চলতি সংসদের বাজেট অধিবেশন শেষ হয়। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন আহ্বানের কথা থাকায় রাষ্ট্রপতি এরই মধ্যে নতুন অধিবেশন ডেকেছেন।

অধিবেশন শুরুর আগে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের উপস্থিতিতে কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেই অধিবেশনের মেয়াদ ও কার্যসূচি চূড়ান্ত হওয়ার কথা।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, অধিবেশনটি পাঁচ, সাত অথবা ১০ দিনের হতে পারে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী এর মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে।

পাস হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিল

অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হলেও অন্তত ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ আইন বা বিল উত্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন-২০২৬’, ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন আইন-২০২৬’ এবং ‘ব্যাংক রেজল্যুশন সংশোধন আইন-২০২৬’ রয়েছে।

এ ছাড়া গুম ও মানবাধিকার সুরক্ষা এবং সম্পত্তি হস্তান্তরসংক্রান্ত বিলও আলোচনায় আসতে পারে। প্রস্তাবিত সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে বাবা-মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তির ভোগদখল ও ব্যবহারের অধিকার ধরে রাখার বিধান রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে সম্পত্তি পাওয়ার পর বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের অবহেলা রোধ করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আদানির বিদ্যুৎ চুক্তি নিয়ে উত্তাপের আশঙ্কা

অধিবেশনে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হতে পারে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে। গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় শিল্প-কারখানার পাশাপাশি আবাসিক গ্রাহকরাও ভোগান্তিতে রয়েছেন।

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি আগের সরকারের সময়ে আদানির সঙ্গে করা বিদ্যুৎ চুক্তিকে দেশের জন্য ‘গর্হিত অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার অভিযোগ, দায়মুক্তির সুযোগ রেখে করা এসব চুক্তির কারণে দেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন না হলেও ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সংসদের বিশেষ কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারেন বিরোধীদলীয় সদস্যরা। পাশাপাশি নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারকে জবাবদিহির মুখে পড়তে হতে পারে।

সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনা

তৃতীয় অধিবেশনে সংবিধান সংস্কার এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ বাস্তবায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পেতে পারে। বিশেষ করে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চিফ হুইপ জানিয়েছেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। এতে বিএনপি থেকে সাতজন, জামায়াত থেকে পাঁচজন এবং অন্যান্য দল থেকে একজন করে সদস্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিরোধী দল সদস্যদের নাম দিলে তাদেরও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

বাকি ৩৫ সংসদীয় কমিটি

সংসদের ৫০টি স্থায়ী কমিটির মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৫টি গঠন করা হয়েছে। বাকি রয়েছে আরও ৩৫টি কমিটি। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সদস্যদের নাম পাওয়ার পর এসব কমিটি চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া অধিবেশনের শুরুতে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানানো হতে পারে। গত ২০ আগস্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে জয়ী হয়ে তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বিরোধী দলের সংসদীয় দলের মুখপাত্র নাজিবুর রহমান মোমেন জানিয়েছেন, অধিবেশনে দলের ভূমিকা কী হবে তা বৈঠকে নির্ধারণ করা হবে। তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে তারা কথা বলবেন এবং বিভিন্ন বিল নিয়ে আলোচনার জন্য পর্যাপ্ত সময় দাবি করবেন।