সারাদেশ

নওগাঁয় পৌঁছেছে সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৭ প্রবাসীর মরদেহ


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম

নওগাঁয় পৌঁছেছে সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৭ প্রবাসীর মরদেহ
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাত প্রবাসীর মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর নিজ এলাকায় নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লাশবাহী হিমায়িত অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহগুলো আত্রাইয়ে পৌঁছায়। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে সৌদি আরব থেকে মরদেহগুলো দেশে আনা হয়।

মরদেহ আত্রাইয়ে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়। নিহতদের শেষবারের মতো দেখতে রাত থেকেই আত্রাই থানা প্রাঙ্গণে ভিড় করেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শুক্রবার সকাল ১০টায় আত্রাই মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে সাতজনের একসঙ্গে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জানাজা শেষে মরদেহগুলো পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সৌদি দূতাবাসের পাঠানো তালিকা অনুযায়ী, নিহত সাতজন হলেন—উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে মো. ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামানিক, একই গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী এবং বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের তমেজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল সরদার।

গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ দূতাবাস, রিয়াদের কাউন্সেলর মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বি স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মরদেহ শনাক্তের তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন। পরে সৌদি কর্তৃপক্ষ আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে নয়জনের পরিচয় শনাক্ত করে।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে প্রশাসন নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সৌদি আরবে পাঠানোর পর প্রশাসনের সমন্বয়ে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে মরদেহগুলো বিনা খরচে আত্রাইয়ে আনা হয়েছে।

তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর শুরুতে আত্রাই উপজেলার ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও বর্তমানে উপজেলার ১১ জনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। এ ছাড়া নওগাঁ সদর উপজেলার একজনের পরিচয়ও নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্য মরদেহগুলো দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরও জানান, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে সাতজনের জানাজা একসঙ্গে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানাজা শেষে মরদেহগুলো পরিবারের সদস্যদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।