রাজধানী

বাইকে দুই তরুণের মাঝে অচেতন তরুণী, সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য 


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম

বাইকে দুই তরুণের মাঝে অচেতন তরুণী, সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য 
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে মাঝরাতে মোটরসাইকেলে দুই তরুণের মাঝে এক তরুণীকে নিথর অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এরই মধ্যে মোটরসাইকেলটির নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্যে নতুন অসংগতি পাওয়া গেছে। নিবন্ধনের সময় দেওয়া দুটি মুঠোফোন নম্বরই ভুয়া কিংবা অকার্যকর বলে ধারণা করছে পুলিশ।

আলোচিত মোটরসাইকেলটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ল ৫১-৫৩২৪। নম্বর প্লেটের তথ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলটির মালিকের ঠিকানা কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর এলাকায়। নিবন্ধনের তথ্যে দুটি মুঠোফোন নম্বর পাওয়া গেলেও এর একটি একটি বিপণন প্রতিষ্ঠানের মালিকের বলে জানা গেছে। তবে ওই ব্যক্তি দাবি করেছেন, মোটরসাইকেলটি তাঁর প্রতিষ্ঠান থেকে বিক্রি হয়নি। কীভাবে তাঁর মুঠোফোন নম্বর নিবন্ধনের তথ্যে এসেছে, সে বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না।

অন্য নম্বরটি দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে মোটরসাইকেলটির প্রকৃত মালিক ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় নিয়ে নতুন করে রহস্য তৈরি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ থেকে ৩টা ২০ মিনিটের মধ্যে। ওমরাহ সফর শেষে বগুড়ায় ফেরার পথে মুফতি মনোয়ার হোসেন আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত একটি মোটরসাইকেল অনুসরণ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলটিতে ছিলেন তিনজন। চালকের পেছনে বসা এক তরুণ একটি তরুণীকে জাপটে ধরে রেখেছিলেন।

তরুণীটির দুই পা খালি ছিল এবং অস্বাভাবিকভাবে নিচের দিকে ঝুলে ছিল। দৃশ্যটি দেখে মুফতি মনোয়ার হোসেনের সন্দেহ হয়, তরুণীটি জীবিত নাকি অচেতন। তাঁর ভাষায়, সচেতন বা জীবিত কোনো মানুষের পা সাধারণত এভাবে নিথর হয়ে ঝুলে থাকার কথা নয়।

সন্দেহজনক পরিস্থিতি দেখে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে সে সময় সংযোগ পাননি। পরে মোটরসাইকেলটির নম্বর প্লেটসহ একটি স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে সেটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পর টঙ্গী পুলিশ সড়কের বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ শুরু করেছে। ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে মোটরসাইকেলের তিন আরোহীকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে মোটরসাইকেলটির নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর ‘জারা চৌধুরী রাত্রি’ নামের একটি হিসাব থেকে মন্তব্য করে দাবি করা হয়েছে, তরুণীটি উত্তরার একটি পানশালায় মদ্যপানের পর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। পরে তাঁকে হুইলচেয়ারে করে নিচে নামানো হয়েছিল বলেও ওই ব্যক্তি দাবি করেন।

ওই হিসাব থেকে আরও দাবি করা হয়, তরুণীর পোশাক দেখে তাঁকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাঁর পরিচিত কয়েকজনের সঙ্গে মিলিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা এসব দাবির সত্যতা এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পুলিশও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানায়নি।

এ ছাড়া মোটরসাইকেলটির নিবন্ধনে দেওয়া ঠিকানা ও মালিকের পরিচয় নিয়েও সন্দেহ থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম-ঠিকানা প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশি তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পরই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।