সারাবিশ্ব

এবার মার্কিন ডলার বর্জনের ডাক দিলেন মোজতবা খামেনি


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম

এবার মার্কিন ডলার বর্জনের ডাক দিলেন মোজতবা খামেনি
ছবি: সংগৃহীত

ইরানে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি লেনদেনে মার্কিন ডলারের ব্যবহার ধীরে ধীরে কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি। একই সঙ্গে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন ও অবরোধের মধ্যেও জনগণের প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা নিশ্চিত করায় প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের প্রশাসনের প্রশংসা করেছেন তিনি।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ‘সরকার সপ্তাহ’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। ১৯৮১ সালের ৩০ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বোমা হামলায় নিহত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলী রাজাই ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ বাকোনারের স্মরণে প্রতিবছর এ কর্মসূচি পালিত হয়।

বাণীতে শহীদ প্রেসিডেন্ট রাজাই ও রাইসি, শহীদ প্রধানমন্ত্রী বাকোনার এবং বিভিন্ন প্রশাসনের নিহত কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপক ও মন্ত্রীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান আয়াতুল্লাহ খামেনি। একই সঙ্গে প্রায় দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকারী শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি।

সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ব্যবস্থাপকদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের আন্তরিক ও যত্নশীল প্রচেষ্টার প্রশংসা করা প্রয়োজন।

আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, মার্কিন-ইসরায়েলি শত্রুর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা, ষড়যন্ত্র ও যুদ্ধের সময় এবং পরবর্তী সময়ে জনগণের প্রয়োজনীয় পণ্য ও বিভিন্ন সেবার সরবরাহ নিশ্চিত করা, ক্ষতিগ্রস্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো পুনর্গঠন এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় প্রশাসন প্রশংসনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।

তিনি বলেন, গত ছয় মাসে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রকৃত শক্তি প্রদর্শন করেছে ইরানি জনগণ। তাই প্রশাসনের বিভিন্ন শাখা থেকে সেবামূলক কার্যক্রম পাওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।

অর্থনৈতিক সংকট প্রসঙ্গে আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মতো সমস্যাগুলো সমাধানে ধারাবাহিক পদক্ষেপ প্রয়োজন। পাশাপাশি অর্থনীতির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।

তিনি উৎপাদন বাড়ানো, অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র থেকে ধীরে ধীরে মার্কিন ডলার বাদ দেওয়া এবং প্রতিরোধমূলক অর্থনীতির নীতিগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আয়াতুল্লাহ খামেনির মতে, এসব সমস্যা সমাধানের মূল চাবিকাঠি হলো যতটা সম্ভব অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল হওয়া।