সারাদেশ

বই খুলে পরীক্ষা, ভিডিও করায় সাংবাদিকদের মারধর


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম

বই খুলে পরীক্ষা, ভিডিও করায় সাংবাদিকদের মারধর
ছবি: সংগৃহীত

মেহেরপুরের গাংনীতে পরীক্ষার হলে বই খুলে পরীক্ষা দেওয়ার দৃশ্য ভিডিও করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন। তাদের মারধরের পাশাপাশি দুটি মোবাইল ফোন ও সাংবাদিকতার সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়া এবং একটি কক্ষে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) গাংনী উপজেলার কাজিপুর ডিগ্রি কলেজে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

হামলার শিকার সাংবাদিকরা হলেন নাগরিক টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি রাব্বি এবং দৈনিক খবরের কাগজের জেলা প্রতিনিধি তারিক।

সাংবাদিক রাব্বির অভিযোগ, ৫০০ টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের বই দেখে পরীক্ষা লেখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে তারা পরীক্ষা কেন্দ্রে যান। সেখানে পরীক্ষার্থীদের বই খুলে পরীক্ষা দিতে দেখে তারা ভিডিও ধারণ শুরু করেন। এ সময় কলেজের শিক্ষক মনিরুজ্জামান বিপ্লবসহ দুই শিক্ষক তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালান।

সাংবাদিক তারিক বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে তারা পরীক্ষার্থীদের বই দেখে পরীক্ষা দিতে দেখেন। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে দুই শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে তাদের দুটি মোবাইল ফোন ও নাগরিক টেলিভিশনের বুম মাইক্রোফোন নিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাদের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। সেখান থেকে কৌশলে বের হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তারা।

পরে আহত দুই সাংবাদিককে গাংনী হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আইনগত ব্যবস্থা নিতে গাংনী থানায় যান তারা।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হবে। হামলা, সাংবাদিকদের আটকে রাখা এবং তাদের মোবাইল ও সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক, তদন্তে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় জেলার সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

গাংনী প্রেসক্লাবের সভাপতি তৌহিদ উদ দৌলা রেজা বলেন, এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নকলের সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে। অর্থের বিনিময়ে নকলের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ পেয়ে দুই সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে অভিযুক্ত শিক্ষকদের উপস্থিতিতেই তাদের ওপর হামলা এবং সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তিনি ঘটনাটিকে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান।

তবে হামলার অভিযোগের বিষয়ে কলেজের শিক্ষক মনিরুজ্জামান বিপ্লবসহ সংশ্লিষ্ট অন্য শিক্ষকদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।