রাজধানী

বাইকে নিথর অবস্থায় থাকা সেই তরুণী বেঁচে আছেন, জানালেন ঘটনার ব্যাখ্যা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম

বাইকে নিথর অবস্থায় থাকা সেই তরুণী বেঁচে আছেন, জানালেন ঘটনার ব্যাখ্যা
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে এক তরুণীকে নিথর অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি নিয়ে তৈরি হওয়া রহস্যের নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। ওই তরুণী শুক্রবার বিকেলে জানিয়েছেন, তিনি জীবিত এবং বর্তমানে সুস্থ আছেন।

বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ থেকে ৩টা ২০ মিনিটের দিকে রাজধানীর সড়কে একটি মোটরসাইকেলে তিনজনকে দেখা যায়। ওমরাহ সফর শেষে বগুড়ায় ফেরার পথে মুফতি মনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত মোটরসাইকেলটির পিছু নেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন একজন যুবক। তার পেছনে বসা আরেক যুবক এক তরুণীকে জাপটে ধরে রেখেছিলেন। তরুণীর দুই পা খালি ছিল এবং অস্বাভাবিকভাবে ঝুলছিল। এ দৃশ্য দেখে মুফতি মনোয়ারের সন্দেহ হয়, তরুণীটি মৃত নাকি অচেতন অবস্থায় রয়েছেন।

পরে মোটরসাইকেলটির নম্বর প্লেটের সূত্র ধরে বিভিন্ন সংস্থা খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, এর মালিকের বাড়ি কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরে। এ ঘটনায় দুটি মোবাইল নম্বরও পাওয়া যায়। এর একটি নম্বরের শেষ তিন সংখ্যা ১৫২। নম্বরটির মালিক এক শোরুম ব্যবসায়ী। তবে তিনি দাবি করেছেন, তার শোরুম থেকে ওই মোটরসাইকেল বিক্রি হয়নি এবং কীভাবে তার নম্বর সেখানে এসেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। অন্য নম্বরটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।

তদন্তে জানা গেছে, মোটরসাইকেলটির মালিকের বাড়ি আব্দুল্লাহপুরে হলেও সেটি চালাচ্ছিলেন রাজেন্দ্রপুরের এক যুবক। তার নামের শেষাংশে ‘আলম’ রয়েছে। তিনি বাইকে থাকা তরুণীকে নিজের স্ত্রী বলে পরিচয় দিচ্ছেন। তবে তাদের বিয়ের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তরুণীর বড়বোনের স্বামীর দাবি, ওই তরুণীকে ‘মিতু’ নামে ডাকা হয়। ঘটনার দিন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হলে রাগ করে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পরে ওই যুবকের সঙ্গে তিনি পানীয় গ্রহণ করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই যুবকেরা তাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

আলম ওই তরুণীর স্বামী কি না জানতে চাইলে বড়বোনের স্বামী বলেন, বিয়ে করবেন বলে তিনি শুনেছেন।

জানা গেছে, ওই তরুণীর আগে দুটি বিয়ে হয়েছিল। তার সাবেক এক স্বামী তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বড়বোনের স্বামীর ভাষ্য অনুযায়ী, পানশালায় অসুস্থ হয়ে পড়ার পর আলম ও তার এক বন্ধু তরুণীকে নিয়ে টঙ্গীতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার কারণে টঙ্গীতে না গিয়ে তারা মিরপুরে ফিরে যান। সেখানে এক বান্ধবীর বাসায় তরুণীকে রেখে আলম তার বোনকে ফোন করে বিষয়টি জানান।